রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল
রমেক হাসপাতালে দালালবিরোধী অভিযান, ৭ জন আটক; ‘ড্রেন পরিষ্কার’ শাস্তি ঘিরে বিতর্ক
রংপুর প্রতিনিধি: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে রোগী হয়রানি ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রমেক হাসপাতালে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা এই অভিযান পরিচালনা করে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রোগী ও স্বজনদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং নির্দিষ্ট সার্ভিসে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশের অভিযান ও অভিযোগ
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর প্রভাব খাটিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছিল। অভিযানে আটক সাতজনের মধ্যে রয়েছেন ওমেদ আলী, রানা মিয়া, রাজু মিয়া, বিপ্লব মিয়া, ফরহাদ হোসেন, আরাফাত হোসেন আপেল এবং মারুফ হোসেন।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনসাধারণের নিরাপদ ও স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং এ ধরনের অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ছাত্রদলের ‘অভিনব শাস্তি’ নিয়ে আলোচনা
একই ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় দালাল চক্রের এক সদস্যকে আটক করে তাকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করানোর অভিযোগ উঠেছে রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবককে ড্রেন পরিষ্কার করতে বাধ্য করা হচ্ছে এবং পরে তাকে দিয়ে ময়লা সরানো হচ্ছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে যেমন সমর্থন দেখা গেছে, তেমনি মানবাধিকার ও আইনি দিক নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে।
ছাত্রদলের ব্যাখ্যা
রংপুর মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মামুন ইসলাম দাবি করেন, রোগী হয়রানি ও ট্রলি সিন্ডিকেটের অভিযোগের ভিত্তিতে তারা ওই ব্যক্তিকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন। পরে তাকে শাস্তিমূলকভাবে ড্রেন পরিষ্কার করানো হয় এবং ভবিষ্যতে এমন কাজ না করার জন্য সতর্ক করা হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, হাসপাতালের ট্রলি ও সেবা ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট কাজ করছে, যার কারণে রোগীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, জরুরি বিভাগে ট্রলি ও সেবার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও অতিরিক্ত টাকা আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। জনবল সংকটসহ নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, হাসপাতালের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, নইলে রোগী হয়রানি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।
বিশ্লেষণ ও প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে দালাল চক্র ও সেবা বাণিজ্যের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বড় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে রোগী ও স্বজনদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রায়ই সামনে আসে।
তবে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা ‘অভিনব শাস্তি’র মতো ঘটনা নতুন বিতর্ক তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপরও প্রশ্ন তুলতে পারে।
উপসংহার
রমেক হাসপাতালের এই ঘটনা একদিকে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি তুলে ধরলেও অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার রক্ষার বিষয়েও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এখন নজর থাকবে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
Source: Based on reporting from Jugantor
