বিমানভর্তি অর্থ দিয়ে ইরানকে চুক্তিতে রাজি করিয়েছিলেন ওবামা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে ইরানকে রাজি করাতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়েছিল। তবে এই দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্পের অভিযোগ

ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে হওয়া জয়েন্ট কমপ্রেহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (জেসিপিওএ) চুক্তির সময় ওবামা প্রশাসন ইরানকে ১৭০ কোটি মার্কিন ডলার নগদ অর্থ দিয়েছিল।

ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থ বিমানযোগে ইরানে পাঠানো হয়েছিল। তিনি এটিকে ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, তার প্রশাসন এমন পদ্ধতি অনুসরণ করেনি।

২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির প্রেক্ষাপট

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইরানের একটি চুক্তি হয়। জেসিপিওএ নামে পরিচিত এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং এর বিনিময়ে দেশটির ওপর থাকা কিছু আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।

চুক্তির মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই চুক্তি নিয়ে শুরু থেকেই মতবিরোধ ছিল।

ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমালোচনা

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১৮ সালে জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন। এরপর ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্প বরাবরই দাবি করে আসছেন, ২০১৫ সালের চুক্তি ইরানের জন্য বেশি সুবিধাজনক ছিল। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেই ইরানের সঙ্গে আরও কার্যকর সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।

আঞ্চলিক উত্তেজনায় নতুন মাত্রা

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আবারও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক আলোচনার মধ্যে অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি বড় একটি আলোচনার জায়গা দখল করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো নতুন সমঝোতার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

আলোচনার মূল বাধা কোথায়?

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্যের মূল জায়গা শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়; বরং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়েও বড় দ্বন্দ্ব রয়েছে।

ইরান বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছে, তারা অর্থনৈতিক চাপ কমানোর বিষয়টিকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখতে চায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক শর্তকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে।

উপসংহার

ইরানের পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য পুরোনো বিতর্ককে আবার সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক কোন দিকে যায়, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

Source: Based on reporting from Jugantor and Al Jazeera

Next News Previous News