হরমুজে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে অবিলম্বে মার্কিন আদেশ মেনে চলতে হবে, জয়শঙ্করকে রুবিও
শনিবার (১৩ জুন) দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকের মধ্যে ফোনালাপ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন হয়।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, হরমুজে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের তেল পরিবহন ও নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরেন।
ভারতীয় নাবিক নিহতের বিষয়টি আলোচনায়
ফোনালাপে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ওমান উপসাগরের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন।
ভারতের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় উদ্বেগ জানানো হয়েছে। দেশটি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কূটনৈতিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে বলেও জানা গেছে।
ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান
ভারত একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশটির জন্য হরমুজ প্রণালী বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির বড় অংশ এই পথের সঙ্গে সম্পর্কিত।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক থাকলেও জাহাজ নিরাপত্তা ও সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নয়াদিল্লি নিজস্ব স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে অবস্থান নিতে পারে।
আঞ্চলিক প্রভাব
হরমুজ প্রণালীর উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তারা পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
উপসংহার
রুবিও-জয়শঙ্কর আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ আগামী দিনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
Source: Based on reporting from Hindustan Times
