মাত্র ২ নম্বরের জন্য বোর্ডস্ট্যান্ড মিস হয় জুয়েলের, ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় ছিলেন ৩৪তম
মাত্র ২ নম্বরের জন্য বোর্ডস্ট্যান্ড হয়নি, ঢাবি ভর্তি পরীক্ষায় ৩৪তম হয়েছিলেন জুয়েল
জাতীয় ডেস্ক: শিক্ষাজীবনের একটি স্মৃতি শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সহ-সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েল। তিনি জানিয়েছেন, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় মাত্র দুই নম্বরের ব্যবধানে বোর্ডস্ট্যান্ড করতে পারেননি, তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধাতালিকায় ৩৪তম স্থান অর্জন করেছিলেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি। সেখানে তিনি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতির কথা উল্লেখ করেন।
স্কুলজীবনের শুরু মালিবাগে
আব্দুল কাদির ভূইয়া জুয়েলের শিক্ষাজীবনের শুরু হয় ঢাকার মালিবাগের শহীদ ফারুক ইকবাল উচ্চ বিদ্যালয়ে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সেখানে পড়াশোনার পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তিনি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।
দুই প্রতিষ্ঠানেই সুযোগ পেলেও পারিবারিক সুবিধা ও বড় ভাইদের পড়াশোনার কারণে তিনি খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
এসএসসি ও এইচএসসিতে ভালো ফল
জুয়েল জানান, ১৯৮৭ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম বিভাগে এসএসসি পাস করে তিনি ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। কলেজে গিয়ে তিনি বিভাগ পরিবর্তন করে বাণিজ্য বিভাগে পড়াশোনা শুরু করেন।
কলেজজীবনে বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও পড়াশোনায় নিয়মিত ছিলেন বলে নিজের পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।
২ নম্বরের জন্য হাতছাড়া বোর্ডস্ট্যান্ড
১৯৮৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষার পর তিনি বোর্ডস্ট্যান্ড করার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন। তবে ফল প্রকাশের পর জানতে পারেন, কাঙ্ক্ষিত অবস্থান অর্জন করতে পারেননি। পরে নম্বর যাচাই করে দেখতে পান, সর্বশেষ বোর্ডস্ট্যান্ড করা শিক্ষার্থীর সঙ্গে তার ব্যবধান ছিল মাত্র দুই নম্বর।
তিনি আরও জানান, আগের বছরের তুলনায় তার ফল ভালো হলেও ওই বছর প্রতিযোগিতা বেশি থাকায় স্ট্যান্ড করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে পরে তিনি নিজের মধ্যেই হাস্যরস করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাতালিকায় ৩৪তম
এইচএসসির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন জুয়েল। ১৯৮৯-৯০ শিক্ষাবর্ষে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি মেধাতালিকায় ৩৪তম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে ভাইভা পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ফিন্যান্স বিভাগে ভর্তি হন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তিনি মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে প্রথম শ্রেণির গ্রেডের স্টাইপেন্ডও পেয়েছিলেন বলে জানান।
পড়াশোনার পাশাপাশি রাজনীতিতে যুক্ত
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন জুয়েল। পরবর্তীতে তিনি জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বে আসেন।
তার এই শিক্ষাজীবনের গল্প অনেকের কাছে অধ্যবসায় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টার উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
উপসংহার
জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সামান্য ব্যবধানে কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি না পেলেও জুয়েলের শিক্ষাজীবনের সাফল্য দেখায়, দীর্ঘমেয়াদে অর্জন নির্ভর করে ধারাবাহিক পরিশ্রম ও লক্ষ্য ধরে রাখার ওপর।
Source: Based on reporting from Jugantor
