যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা অবরোধের লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না’
ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো ধরনের তেল পরিবহন কার্যক্রম মেনে নেওয়া হবে না বলে ভারতকে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সময়ে ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলায় ভারতীয় নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।
হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মার্কো রুবিও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের বিষয়টি উঠে আসে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ইরানের তেল পরিবহন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
মার্কো রুবিও ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ইরানের তেল পরিবহনের কোনো প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য হবে না। ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এসব নিষেধাজ্ঞা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নীতির অংশ। তবে ইরান ও কিছু দেশ এসব পদক্ষেপকে রাজনৈতিক চাপ হিসেবে বিবেচনা করে।
ভারতের প্রতিবাদ
এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানান, ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
জয়শঙ্করের ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর প্রাণঘাতী হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ঘটনায় ভারত কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছে।
কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে
সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হামলার প্রতিবাদ জানাতে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত একজন মার্কিন কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত। অল্প সময়ের মধ্যে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এমন পদক্ষেপ বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে কয়েকটি জাহাজের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্যে প্রভাবের আশঙ্কা
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজার এবং আঞ্চলিক কূটনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
Source attribution: Source: Based on reporting from The Daily Ittefaq and Reuters
