ইরানকে বাদ দিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়: আরাগচি
ইরানকে অন্তর্ভুক্ত না করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সব দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও স্বার্থের প্রতি সম্মান প্রয়োজন।
সব দেশের অংশগ্রহণের ওপর জোর
রোববার ইরানের তৃণমূল পর্যায়ের সামাজিক কর্মী ও গণসমাবেশ আয়োজকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আরাগচি এসব কথা বলেন। তার বক্তব্যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ইরানের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করেছে। কোনো একটি দেশকে বাদ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠা করা কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনগণের ঐক্যকে শক্তি হিসেবে দেখছেন আরাগচি
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কৌশলগত অগ্রগতি ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জনগণের অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার মতে, একটি দেশের শক্তি শুধু সামরিক সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না; জাতীয় ঐক্য ও সামাজিক সংহতিও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, সংকটের সময়ে জনগণের সচেতন উপস্থিতি রাষ্ট্রের সক্ষমতা বাড়ায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করে।
সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে মন্তব্য
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে আরাগচি বলেন, ইরান বিভিন্ন পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। এসব অভিজ্ঞতা আঞ্চলিক রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিভিন্ন দেশের ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য কূটনৈতিক আলোচনা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।
ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা কাঠামোর আহ্বান
আরাগচি বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সংশ্লিষ্ট সব দেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমেই দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও উন্নয়ন সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের ভূমিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। নতুন নিরাপত্তা কাঠামো কেমন হবে, সেটি এখনো আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক কূটনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Source attribution: Source: Based on reporting from যুগান্তর
