আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘোরেনি: ডা. শেখ মহিউদ্দিন

ঢাকা: আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন দাবি করেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে কোনো ধরনের আর্থিক সুবিধা নেওয়া বা প্রভাব খাটানোর উদ্দেশ্যে যায়নি। তিনি বলেছেন, নিয়ম ও আইন মেনেই বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

সম্প্রতি আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল অভিযোগ করেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কাছে আর্থিক সুবিধা নিয়ে এসেছিল। তবে এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, হাসপাতাল কোনো অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করেনি।

তিনি বলেন, হাসপাতালের পক্ষ থেকে সবসময় নির্ধারিত নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা আর্থিক প্রস্তাবের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু হয় বিতর্ক

জানা গেছে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসছে এবং বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টদের মতে, হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে রোগীর নিরাপত্তা, চিকিৎসার মান এবং ব্যবস্থাপনার স্বচ্ছতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কোনো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, অভিযোগের পরও হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সরকারি সিদ্ধান্ত—দুই দিক নিয়েই স্বাস্থ্য খাতে আলোচনা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যেমন রোগীর স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে স্বাস্থ্য খাতে আস্থা বজায় থাকে।

রোগীর নিরাপত্তাই মূল বিষয়

আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ দেশের বেসরকারি চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘটনায় মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, চিকিৎসা ব্যবস্থার মান উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।

উপসংহার

আদ্‌-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ইস্যুতে এখনো বিতর্ক চলমান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়ম মেনে চলার দাবি করেছে, আর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। সামনে নিরপেক্ষ পর্যালোচনা ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই এ বিষয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Source: Based on reporting from Prothom Alo, Bangladesh Pratidin and Bangla Tribune

Next News Previous News