নেতানিয়াহুকে লাঠি-পাথর দিয়ে তাড়ানোর ডাক দিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী

জেরুজালেম: ইসরাইলের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাকের এক মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেন, তাহলে জনগণের প্রতিবাদে তাকে ক্ষমতা ছাড়তে হতে পারে। তার মন্তব্যের পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে সতর্কবার্তা

ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ‘কান’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এহুদ বারাক বলেন, নেতানিয়াহু ভবিষ্যৎ সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত বা বিলম্বিত করার চেষ্টা করতে পারেন বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে জনগণ বড় ধরনের আন্দোলনে নামতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৯৯ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বারাক দাবি করেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার ঝুঁকি রয়েছে। তার মতে, চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হতে পারে।

যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিযোগ

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, নেতানিয়াহুর নীতির কারণে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ ও দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া থেকেও সরকার কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।

বারাক আরও বলেন, লেবানন ইস্যুতে নতুন সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং এতে ইরান ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে চলমান চাপ

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বর্তমানে দুর্নীতির অভিযোগে বিচারাধীন রয়েছেন। একই সঙ্গে গাজা যুদ্ধ নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব কারণে তার নেতৃত্ব নিয়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে বিতর্ক রয়েছে।

২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর সরকারকে ইসরাইলের ইতিহাসের অন্যতম ডানপন্থী সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন অনেক বিশ্লেষক। দেশটিতে আগামী সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরের মধ্যে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা নিয়েও মন্তব্য

সাক্ষাৎকারে এহুদ বারাক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরান ইস্যুতে ইসরাইল যে লক্ষ্য অর্জনের কথা বলেছিল, তা পূরণ হয়নি। তার মতে, ভুল কৌশলের কারণে দেশকে মূল্য দিতে হচ্ছে।

বারাকের মন্তব্যে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীরা সমর্থন জানালেও সরকারপন্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

লিকুদ পার্টির পাল্টা প্রতিক্রিয়া

নেতানিয়াহুর দল লিকুদের আইনপ্রণেতা ও নেসেটের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান বোয়াজ বিসমুথ অভিযোগ করেছেন, এহুদ বারাকের বক্তব্য সহিংসতাকে উসকে দিতে পারে। তিনি তার বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বিসমুথ বারাকের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বলেন, এ ধরনের মন্তব্য রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে।

ইসরাইলি রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক

এহুদ বারাকের বক্তব্যের পর ইসরাইলের রাজনৈতিক বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে। একদিকে সরকার সমর্থকরা এটিকে উসকানিমূলক মন্তব্য হিসেবে দেখছেন, অন্যদিকে বিরোধীরা নেতানিয়াহু সরকারের নীতির সমালোচনায় এটিকে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিচার প্রক্রিয়া—এই তিনটি বিষয়ই আগামী সময়ে ইসরাইলের রাজনীতির প্রধান আলোচ্য হয়ে থাকবে।

Source: Based on reporting from International Desk

Next News Previous News