লেবাননে নিহত ২ বাংলাদেশির মরদেহ মধ্যরাতে দেশে পৌঁছাবে
লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদেহ শনিবার (৬ জুন) দিবাগত রাতে দেশে পৌঁছাবে। দীর্ঘদিন বৈরুতের একটি হাসপাতালে সংরক্ষিত থাকার পর অবশেষে মরদেহগুলো বাংলাদেশে ফেরত আনা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করবেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিষয়টি শনিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়।
যেভাবে ঘটেছিল হামলা
গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় ইসরায়েলের একটি ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি কর্মী নিহত হন। তারা সেখানে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর নিহতদের মরদেহ বৈরুতের রফিক হারিরি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর অবশেষে মরদেহ দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মরদেহ ফেরত আনা
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হচ্ছে।
বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণের পর তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। লেবাননসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি এখন কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ ও সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ করিডোর ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশের জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব
প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত নাগরিকদের মরদেহ দ্রুত ফেরত আনা—উভয় বিষয়ই সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হলে ভবিষ্যতে প্রবাসী শ্রমিকদের ঝুঁকি কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Source: Based on reporting from Jugantor
