শক্তিশালী ও অহংকারী বলেই যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করছে না ইরান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান সংঘাত নিরসনে এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে থাকার কারণেই যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে সমঝোতায় আসছে না। তবে শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথেই দেশটিকে ফিরতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শুক্রবার (৫ জুন) উইসকনসিনের চিপেওয়া ফলসে এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ক্রিস্টেন ওয়েলকারকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। দুই দেশের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা ও সামরিক তৎপরতার মধ্যেই তার এই বক্তব্য সামনে এসেছে।
যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি সংঘাত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত কমাতে এর আগে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ একটি সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছায় এবং পরে কয়েক দফায় তা বাড়ানো হয়। তবে হরমুজ প্রণালির কাছে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, ইরানি হামলার জবাব হিসেবে তারা আত্মরক্ষামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে পরিচিত অভিযান শেষ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক তেল বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়ে।
সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর চাপ পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারেও জ্বালানি মূল্য নিয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
ট্রাম্পের দাবি নিয়ে বিতর্ক
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্র ও ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে।
তবে ইরান এখনো পাল্টা সামরিক সক্ষমতা ধরে রেখেছে বলে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো থেকে ধারণা পাওয়া যায়। পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা সংঘাতের জটিলতা আরও বাড়িয়েছে।
পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বিরোধ
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অভিযোগ, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির আশঙ্কা থেকেই সামরিক চাপ তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।
এই বিরোধই দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বড় সংকট হিসেবে রয়েছে। কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মূল নজরের বিষয়।
ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
ট্রাম্প জানিয়েছেন, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হলে ইরানের ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয় বিবেচনা করা হতে পারে। তবে চুক্তি ব্যর্থ হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্ব জ্বালানি বাজার, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
Source: Based on reporting from Jugantor
