১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলে ১৩ ফেব্রুয়ারি গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারত
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করা হলে পরদিন থেকেই দেশে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারত বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতি দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারত।
সিলেটে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য
রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগরের আয়োজনে ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সন্দেহ বা অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দায়িত্বশীলদের সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তার মতে, সে সময়ের পরিস্থিতি বিবেচনায় একটি বড় ধরনের অস্থিরতার আশঙ্কা ছিল।
গণভোটের ফল নিয়ে প্রশ্ন
গণভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে জামায়াত আমির দাবি করেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল এবং জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, জনগণের এই মতামত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে কতটা প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে বিভিন্ন স্থানে একটি নির্দিষ্ট জনমতের প্রতিফলন দেখা গেলেও পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়েছে বলে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শফিকুর রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে উত্তেজনা এড়াতে দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। প্রতিটি বক্তব্যের পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব প্রসঙ্গে বক্তব্য
দেশের স্বাধীনতার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছানো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনায় যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের নিজেদের কার্যক্রম নিয়েও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন।
তার মতে, জনগণের আস্থা ধরে রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রতিশ্রুতি ও কার্যক্রমের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।
সংসদ ও রাজপথ নিয়ে অবস্থান
বিরোধী দল হিসেবে সংসদে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তারা চরম অবস্থান নয়, বরং যৌক্তিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করতে চান।
তবে সংসদে জনগণের দাবি নিয়ে কার্যকর আলোচনা সম্ভব না হলে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণের কাছে যাওয়ার কথা বলেন তিনি।
বিএনপির ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ
বক্তব্যে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর আচরণে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
তবে রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যেও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
Source attribution: Source: Based on reporting from কালের কণ্ঠ
