ইরানে হামলার আগে ট্রাম্পকে কীসের লোভ দেখিয়েছিলেন নেতানিয়াহু

নেতানিয়াহুর ফোনের পরই ইরান হামলার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

নেতানিয়াহুর ফোনের পরই ইরান হামলার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প: রয়টার্স

প্রকাশ: ২৪ মার্চ ২০২৬

ইরানের ওপর ইসরাইলি ও মার্কিন হামলা শুরুর ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেই ফোনালাপেই সম্ভাব্য যুদ্ধের বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা।

সূত্রগুলোর মতে, নেতানিয়াহু ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার সুযোগের কথা উল্লেখ করলে ট্রাম্প এই সামরিক অভিযানের ব্যাপারে আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে একটি বৈঠকে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন, যা তাদের লক্ষ্য করে ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ চালানোর সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।

ফোনালাপ সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, বৈঠকের সময় পরিবর্তনের খবরও তখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর কাছে পৌঁছেছিল। এর ফলে সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা নিয়ে নতুন হিসাব তৈরি হয়।

নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ইরানের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিলেন। তিনি ট্রাম্পকে বলেন, খামেনিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর এমন সুযোগ আর কখনো নাও আসতে পারে।

ট্রাম্পকে হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগ

২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী থাকা অবস্থায় ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ইরান পরিকল্পনা করেছিল বলেও দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ একজন পাকিস্তানি নাগরিকের বিরুদ্ধে ভাড়াটে খুনি নিয়োগের অভিযোগ এনেছে।

এই পরিকল্পনাটি মূলত মার্কিন হামলায় আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধি

হামলার আগের সপ্তাহ থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছিল। প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মনে করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট কবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তা কেবল সময়ের ব্যাপার।

সূত্রগুলো মনে করেন, নেতানিয়াহুর ফোনালাপ এবং ইরানের শীর্ষ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলার সম্ভাবনা—এই দুই বিষয়ই ট্রাম্পকে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছিল।

২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে প্রথম বোমা আঘাত হানে। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন।

ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ছিল ব্যক্তিগত

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি ফোনালাপ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য না করলেও বলেন, হামলার লক্ষ্য ছিল ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটি যাতে কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে টেনে এনেছে—এমন অভিযোগ ‘ফেক নিউজ’। তার ভাষায়, ‘কেউ কি সত্যিই মনে করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলে দেওয়া যায় কী করতে হবে?’

ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে বলেছেন যে হামলার সিদ্ধান্তটি ছিল একান্তই তার নিজের।

Next News Previous News