ইরানকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাবে আছে যেসব শর্ত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থামাতে ১৫ দফা প্রস্তাব
চলমান মার্কিন-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৫ দফা প্রস্তাব তৈরি করেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেনামি কর্মকর্তা জানিয়েছেন এই প্রস্তাব পাকিস্তান সরকারের মাধ্যমে ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে দুই পক্ষ এক মাসের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে পারে। এরপর এই কাঠামোর ভিত্তিতে একটি আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তির আলোচনা শুরু হবে।
চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান সব ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে এবং বিদ্যমান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করতে রাজি হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানকে তার বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা ভেঙে দিতে হবে এবং ভবিষ্যতে কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। পাশাপাশি ইরানের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানো যাবে না।
এছাড়া কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সব সময় উন্মুক্ত রাখার শর্তও এই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হরমুজ প্রণালির ওপর কড়া শর্ত আরোপের কারণ হলো ইরানের আংশিক অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
এই আলোচনার নেতৃত্বে রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জেরেড কুশনার।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই আলোচনায় ইসরায়েল সরাসরি অংশ নিচ্ছে না।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র না রাখার বিষয়ে রাজি হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে।
তিনি আরও জানান, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, স্টিভ উইটকফ এবং জেরেড কুশনার এই আলোচনার দায়িত্বে রয়েছেন।
ট্রাম্প শাসন পরিবর্তনের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “এটাই আমাদের কাছে আসল শাসন পরিবর্তন। কারণ বর্তমান নেতারা সেই পুরনোদের চেয়ে অনেক আলাদা, যারা এসব সমস্যা তৈরি করেছিলেন।”
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
