সরকারের বারবার আশ্বাসেও থামছে না অস্থিরতা
জাতীয় ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মজুত থাকার আশ্বাস বারবার দেওয়া হলেও বাস্তবে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ সারি, সরবরাহ ঘাটতি ও ভোক্তাদের উদ্বেগ পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ঘাটতি এবং বাজারে অনিয়ম এই সংকটকে আরও জটিল করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়েছে বাংলাদেশে। বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে বেশি জ্বালানি সংগ্রহ করছেন অনেকেই, ফলে পাম্পগুলোতে চাপ বেড়েছে।
পাম্পে চাপ, সরবরাহে অসামঞ্জস্য
দেশের বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল ও অকটেনের জন্য দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। যদিও সরকার বলছে, পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে, তবে পাম্প মালিকদের দাবি—চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাচ্ছেন তারা। ফলে সরবরাহ ও বাস্তব চাহিদার মধ্যে ফাঁক তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের তথ্যের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও মূল্য বৃদ্ধি
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় বাজারে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেশীয় বাজারে দাম না বাড়িয়ে সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে সরবরাহ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ চালু রাখা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কম পড়ে।
সরকারি উদ্যোগ ও সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা
সরকার ইতোমধ্যে জরুরি চাহিদা মেটাতে বিপুল পরিমাণ ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে। পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য একাধিক ট্যাংকার দেশে আসার কথা রয়েছে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতে চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এসব উদ্যোগের সুফল দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
অবৈধ মজুত ও বাজারে অনিয়ম
সংকটের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে সংরক্ষিত জ্বালানি উদ্ধার ও জরিমানার ঘটনা ঘটছে।
সরকার বলছে, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তেল ডিপো, পাম্প ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে এবং নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি। সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি ধাপে নজরদারি বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার কমানো এবং জনগণের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন।
তারা আরও পরামর্শ দেন, ব্যক্তিগত যানবাহনের ব্যবহার কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবহারে উৎসাহিত করা এবং কৃষি ও জরুরি খাতে জ্বালানির অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা উচিত।
উপসংহার
সরকারের আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা পুরোপুরি কাটেনি। বৈশ্বিক পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও বাজারে অনিয়ম—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখনো চ্যালেঞ্জিং। দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
