দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচশরও বেশি সেনার ওপর হামলার দাবি ইরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার এ দাবি করেন। তবে এ ঘটনার স্বাধীনভাবে কোনো আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি।

ইরানের সামরিক বাহিনীর খতম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাঘারি জানান, দুবাইয়ের দুটি স্থানে অভিযান চালানো হয়, যেখানে পাঁচ শতাধিক মার্কিন সেনা অবস্থান করছিল বলে তাদের গোয়েন্দা তথ্য ছিল। হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

মিসাইল ও ড্রোন হামলার দাবি

ইরানি কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযানে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, “লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার পরই সমন্বিত হামলা চালানো হয়, যাতে শত্রুপক্ষের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।”

এছাড়া তিনি আরও দাবি করেন, অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং তাদের বাহিনী নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্থানে সরে যাচ্ছে।

যাচাইহীন দাবি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

এ ঘটনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও দাবিটির স্বাধীন যাচাই করতে পারেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং তথ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত জোটের মধ্যে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

এর আগে ইরান দাবি করেছিল, দুবাইয়ে একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা ডিপো লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। ফলে সংযুক্ত আরব আমিরাত এখন এই সংঘাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত থাকায় তাদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ও তেলের দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

উপসংহার

দুবাইয়ে হামলার এই দাবি সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে নতুন মাত্রা দেবে। তবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচাই ও প্রতিক্রিয়ার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে।

Source: Based on reporting from আল জাজিরা

Next News Previous News