এক মাস ধরে ‘ডিজিটাল অন্ধকারে’ ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে গত চার সপ্তাহ ধরে কার্যত ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস এ অবস্থাকে ‘ডিজিটাল অন্ধকার’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এতে দেশটির নাগরিকদের মৌলিক যোগাযোগ ও তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই ইন্টারনেট বিভ্রাটের ফলে ইরানের সাধারণ মানুষ বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন সেবায় প্রবেশ সীমিত হয়ে গেছে।

চার সপ্তাহ ধরে সীমিত সংযোগ

নেটব্লকসের তথ্য বলছে, টানা এক মাস ধরে দেশের ইন্টারনেট সংযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন চলছে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, বরং একটি নিয়ন্ত্রিত নীতির অংশ বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে তথ্য প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতগুলোও ক্ষতির মুখে পড়ে।

দ্বি-স্তরীয় ইন্টারনেট ব্যবস্থা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে বর্তমানে একটি দ্বি-স্তরীয় ইন্টারনেট কাঠামো কার্যকর রয়েছে। প্রথম স্তরে সরকার-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিরবচ্ছিন্ন বৈশ্বিক ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারছেন।

অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের জন্য ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। অধিকাংশ মানুষকে দেশটির নিজস্ব ‘ন্যাশনাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক’ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা একটি অভ্যন্তরীণ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবস্থা।

আগেও ঘটেছে ইন্টারনেট বন্ধ

চলতি বছরে এটি প্রথমবার নয়। এর আগে জানুয়ারি মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে কয়েক সপ্তাহের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল। ফলে এই ধরনের পদক্ষেপ এখন নিয়মিত কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মানবাধিকার ও বৈশ্বিক উদ্বেগ

ডিজিটাল অধিকারকর্মীরা বলছেন, ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়, এটি তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। দীর্ঘমেয়াদি ব্ল্যাকআউট নাগরিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছে।

বাংলাদেশসহ বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ডিজিটাল বিচ্ছিন্নতা আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং তথ্য প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরোক্ষভাবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

উপসংহার

ইরানে দীর্ঘস্থায়ী ইন্টারনেট বিচ্ছিন্নতা শুধু একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যপ্রবাহের প্রশ্নও তুলে ধরেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে কিনা, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Source: Based on reporting from আমার দেশ, BBC, NetBlocks

Next News Previous News