বিএনপি নেতার গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক বিএনপি নেতার বসতবাড়ির গোয়ালঘর থেকে ড্রামভর্তি পেট্রোল উদ্ধার করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও বিক্রির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

শুক্রবার (২৮ মার্চ) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের একটি গ্রামে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাফিউর রহমান।

অভিযানে যা উদ্ধার

প্রশাসনের তথ্যমতে, ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতার বাড়ির গোয়ালঘরে বিপুল পরিমাণ পেট্রোল ড্রামে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছিল। অভিযানের সময় সেখান থেকে পেট্রোলভর্তি ড্রাম এবং বিক্রির কাজে ব্যবহৃত কিছু সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, ওই পরিবারের একজন সদস্য নিকটবর্তী পেট্রোল পাম্প থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করে তা মজুত রেখে বেশি দামে বিক্রি করছিলেন।

আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা

ভ্রাম্যমাণ আদালত জানায়, পেট্রোলিয়াম আইন, ২০১৬ অনুযায়ী অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাফিউর রহমান বলেন, “বসতবাড়ির গোয়ালঘরে পেট্রোল মজুত রাখা ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনবিরোধী। তাই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

অভিযোগ অস্বীকার পরিবারের

তবে অভিযুক্ত পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পরিবারের এক সদস্য দাবি করেন, ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সীমিত পরিমাণ পেট্রোল সংরক্ষণ করা হয়েছিল এবং এটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ছিল না।

তাদের অভিযোগ, স্থানীয় বিরোধের জেরে কেউ প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে এই অভিযান পরিচালনায় প্ররোচিত করেছে।

নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের বিষয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ যেমন পেট্রোল মজুত রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি অগ্নিকাণ্ডের সম্ভাবনা বাড়ায় এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে।

প্রশাসনও বলছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপসংহার

কুড়িগ্রামের এই ঘটনাটি জ্বালানি মজুত ও বিক্রির ক্ষেত্রে আইন মেনে চলার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Source: Based on reporting from আমার দেশ

Next News Previous News