বাংলাদেশ বিকিয়ে দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক এই সরকার কখনো করবে না

‘কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে বাংলাদেশ মাথানত করবে না’ — গোলাম পরওয়ার

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে অতীতে মাথানত করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তিনি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত রক্ষায় জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে ভারত কর্তৃক বাংলাদেশে ‘পুশইন’, সীমান্ত হত্যা এবং নির্যাতনের প্রতিবাদে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা এবং ভূখণ্ড রক্ষায় দেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ প্রয়োজন হলে সীমান্ত সুরক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ শান্তিপ্রিয় এবং পারস্পরিক সম্মান ও বন্ধুত্বে বিশ্বাস করে। তবে বন্ধুত্বের আড়ালে কোনো ধরনের আধিপত্যবাদী আচরণ বা চাপ প্রয়োগ দেশের মানুষ মেনে নেবে না।

ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ ভারতের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করলেও একই ধরনের সম্মান সবসময় প্রত্যাশিত মাত্রায় পায়নি।

গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সীমান্ত সমস্যা ও দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন ইস্যুর সমাধানে ন্যায্যতা ও সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব দিতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক এবং জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও দেলাওয়ার হোসেন।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপার সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারীসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা, কথিত পুশইন এবং প্রতিবেশী দেশের বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে এ বিষয়ে সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

Next News Previous News