শেখ মুজিব ফ্যাসিবাদের আইকন: মাহমুদুর রহমান
‘শেখ মুজিব স্বাধীন বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদের আইকন’—মাহমুদুর রহমান
আমার দেশ সম্পাদক ও ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মাহমুদুর রহমান বলেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমানকে তিনি ‘ফ্যাসিবাদের আইকন’ হিসেবে দেখেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের ইতিহাসকে তিনি গণতন্ত্র থেকে ফ্যাসিবাদের পথে যাত্রার ইতিহাস বলে উল্লেখ করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস’ উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, পাকিস্তান আমলের শেখ মুজিব এবং স্বাধীন বাংলাদেশের শেখ মুজিবকে আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তার ভাষায়, স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিব সংবাদপত্র ও গণতান্ত্রিক অধিকার সীমিত করার মাধ্যমে একটি কর্তৃত্ববাদী রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেন।
তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের রাজনৈতিক চরিত্রের মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। তার মতে, শেখ মুজিব দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলে তিনি আরও কঠোর শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতেন।
মাহমুদুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তার মতে, শেখ মুজিবকে শেখ হাসিনা থেকে বিচ্ছিন্ন করে মূল্যায়নের সুযোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্র ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের প্রতীক হিসেবে ১৬ জুন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কালো দিন। তার ভাষায়, এই দিনটি জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের ওপর আঘাতের স্মারক হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত।
রক্ষী বাহিনী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গঠিত রক্ষী বাহিনী পরবর্তী সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পূর্বসূরি হিসেবে কাজ করেছে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন, গণমাধ্যমের প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের প্রশ্ন করা। তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত স্বাধীনতা বজায় রাখা, আত্মসমালোচনার মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় উপস্থাপিত প্রবন্ধে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, গণমাধ্যম যখন জনগণের বাস্তবতা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়, তখন জনগণ নিজেরাই প্রতিবাদের নতুন ভাষা তৈরি করে।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তার মতে, দীর্ঘ সময় ধরে মূলধারার গণমাধ্যমের একটি অংশ ক্ষমতাসীনদের বয়ান প্রচারে বেশি মনোযোগী হওয়ায় জনগণের সঙ্গে বাস্তবতার দূরত্ব তৈরি হয়েছিল।
অধ্যাপক মাসুম আরও বলেন, একটি স্বাধীন, নির্ভীক ও জবাবদিহিমূলক গণমাধ্যম ছাড়া গণতন্ত্রের বিকাশ সম্ভব নয়। শাসককে প্রশ্ন করার সাহস এবং সত্য প্রকাশের স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের মূল শক্তি।
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সাংবাদিক নেতা, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
