সীমান্তের যেখানেই যাচ্ছে দিচ্ছে ধাওয়া, বন্দুকের মুখে অনাহারে ঘুরছেন বৃদ্ধ

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এক বৃদ্ধকে ঘিরে তৈরি হয়েছে মানবিক সংকট। একদিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ), অন্যদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি)—দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের অবস্থানের কারণে ওই বৃদ্ধ এখন নো ম্যানস ল্যান্ডে আটকা পড়ে আছেন। অনিশ্চয়তার মধ্যে স্থানীয় গ্রামবাসীরা তাকে পানি ও শুকনা খাবার দিয়ে সহায়তা করছেন।

শূন্যরেখায় কাটছে দিন-রাত

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর-রামরামপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাত থেকে ওই বৃদ্ধ অবস্থান করছেন। বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানেই ছিলেন বলে জানা গেছে।

বৃদ্ধকে বাংলাদেশের দিকে আসতে এবং ভারতের দিকেও ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ফলে দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটছে তার।

পুশইনের অভিযোগ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বিএসএফ ওই বৃদ্ধসহ কয়েকজনকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় বিজিবি বাধা দিলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। কয়েকজন ব্যক্তি ফিরে যেতে পারলেও ওই বৃদ্ধ সীমান্তের মাঝামাঝি এলাকায় আটকা পড়েন।

সীমান্তবাসীরা জানান, গত শনিবার ভোররাতে রামরামপুর সীমান্ত এলাকায় কয়েকজন মানুষকে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বিজিবি ও স্থানীয়দের বাধায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

মানবিক সহায়তায় এগিয়ে এলেন স্থানীয়রা

দুই বাহিনীর নজরদারির মধ্যে থাকা ওই বৃদ্ধের কাছে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা পানি ও শুকনা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। সীমান্ত এলাকার মানুষজন বলছেন, বয়সের কারণে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।

স্থানীয় বগারচর ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বেলায়েত হোসেন বুলাল বলেন, একজন বৃদ্ধ মানুষকে এভাবে সীমান্তের মাঝখানে আটকে থাকতে দেখা অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তার ভাষ্য, বিষয়টির দ্রুত মানবিক সমাধান হওয়া প্রয়োজন।

বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠক

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বুধবার সকালে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে ওই বৃদ্ধের পরিচয় ও অবস্থান নিয়ে কোনো সমাধান হয়নি বলে জানা গেছে।

বিজিবির ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং শান্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সীমান্তে মানবিক সমাধানের দাবি

সীমান্ত পরিস্থিতি সাধারণত নিরাপত্তার বিষয় হলেও এ ধরনের ঘটনায় মানবিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়রা আশা করছেন, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত ওই বৃদ্ধের অবস্থার সমাধান হবে।

শেষ কথা

সীমান্তের শূন্যরেখায় একজন বৃদ্ধের আটকে থাকার ঘটনা আবারও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় মানবিক সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এখন সবার নজর দুই দেশের কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে।

Source: Based on local media reporting and border officials’ statements

Next News Previous News