৫৪ কেজিতে মণ’ আমের ধলতা প্রথা বন্ধের নির্দেশ

রাজশাহী অঞ্চলের আমচাষিদের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পর অবশেষে ‘ঢলন’ বা ‘ধলতা’ নামে পরিচিত অতিরিক্ত ওজন নেওয়ার প্রথা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। এখন থেকে আম বেচা-কেনার ক্ষেত্রে সরকারি মানদণ্ড অনুযায়ী ৪০ কেজিতেই এক মণ হিসাব করতে হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতির মুখে থাকা চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিলেন আমচাষিরা

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরের বিভিন্ন আম মোকামে বহু বছর ধরে ‘ঢলন’ বা ‘ধলতা’ নামে একটি প্রচলন ছিল। এই ব্যবস্থায় ৪০ কেজিতে এক মণ হওয়ার কথা থাকলেও অনেক জায়গায় আম বিক্রির সময় ৪৪ থেকে ৫৪ কেজি পর্যন্ত আম দিতে হতো চাষিদের।

অতিরিক্ত আম দিলেও চাষিরা মূল্য পেতেন ৪০ কেজির হিসাবেই। ফলে প্রতি মণে ৪ থেকে ১৪ কেজি পর্যন্ত আম কার্যত বিনা দামে চলে যেত বলে অভিযোগ করে আসছিলেন বাগানি ও কৃষকরা।

প্রশাসনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আমচাষি, ব্যবসায়ী, আড়তদার, ফড়িয়া, কৃষি বিপণন বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, এখন থেকে কোনো মোকামেই ৪০ কেজির বেশি ধরে আমের মণ হিসাব করা যাবে না।

বিভাগীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোকে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মোকামগুলোতে প্রচার চালানো এবং নির্দেশ অমান্য করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।

চাষিদের দীর্ঘদিনের দাবি

আমচাষিরা জানান, এই প্রথা বন্ধের জন্য তারা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। গত বছরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪০ কেজিতে মণ হিসাব করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে তা পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বলে অভিযোগ ছিল।

চাষিদের ভাষ্য, আমের প্রকৃত উৎপাদক তারা হলেও প্রচলিত এই ব্যবস্থার কারণে লাভের বড় অংশ চলে যেত মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে। অন্যদিকে সাধারণ ক্রেতারাও এই অতিরিক্ত ওজনের সুবিধা পেতেন না।

প্রশাসনের বক্তব্য

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আ ন ম বজলুর রশীদ বলেন, ৪০ কেজির মণকে ৪০ কেজিই হিসেবে গণ্য করতে হবে। কোনোভাবেই ৪৮ বা ৫৪ কেজিতে মণ নির্ধারণ করা যাবে না।

তিনি জানান, চাষিরা যাতে তাদের উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আম ব্যবসায় নতুন পরিবর্তনের আশা

রাজশাহী অঞ্চলের আম দেশের অন্যতম জনপ্রিয় কৃষিপণ্য। মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আম দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হয়। দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত প্রথা বন্ধ হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা—সব পক্ষের জন্য আরও স্বচ্ছ বাজার ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আমচাষিরা আশা করছেন, নতুন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তারা ন্যায্য দাম পাবেন এবং আম ব্যবসায় অনিয়ম কমবে।

Source: Based on reporting from Jugantor (Rajshahi Correspondent)

Next News Previous News