হরমুজ প্রণালী ফের বন্ধ

ইরান আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছে না আসার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। শনিবারের এই ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যে কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্ত

আইআরজিসি নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রম এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্তকে তেহরান তাদের প্রতিক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমঝোতা ও যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগকারী এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে যায়।

এই নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি বাধা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর প্রভাব হিসেবে তেলের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বাড়া এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মধ্যেই নতুন উত্তেজনা

ইরানের এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শুরু হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

সমঝোতার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক আলোচনার পথ তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে ইরান অভিযোগ করে আসছে, যুদ্ধবিরতির শর্ত পুরোপুরি মানা হচ্ছে না।

আন্তর্জাতিক মহলের নজর হরমুজের দিকে

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কারণ এই জলপথের নিরাপত্তা শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দেশগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এখন বড় প্রশ্ন হলো, ইরান বাস্তবে কতটা সময় ধরে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে পারে এবং কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়।

বাংলাদেশসহ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোও এ ধরনের আন্তর্জাতিক সংকটের প্রভাবের দিকে নজর রাখছে। দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও জ্বালানি মূল্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

Source attribution: Source: Based on reporting from সময় নিউজ

Next News Previous News