এই মিয়া চুপ করেন, একেবারে খেয়ে ফেলব, বিএনপিকর্মীকে এমপি হানজালা
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় একটি সালিশ বৈঠকে সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালার উত্তেজিত আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাকে উপস্থিত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় কথা বলতে ও টেবিলে চাপড় দিতে দেখা যায়। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বৈঠকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় বিএনপির কর্মী তারা মিয়াকে ঘিরে একটি সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়। স্থানীয় বিরোধের বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই বৈঠকে একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বৈঠকের সময় এমপি হানজালা উপস্থিত লোকজনকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি উত্তেজিত হয়ে কথা বলেন, যা নিয়ে পরে বিভিন্ন মহলে আলোচনা তৈরি হয়।
অভিযোগ করলেন সালিশে উপস্থিত ব্যক্তি
বৈঠকের অন্যতম পক্ষ তারা মিয়া দাবি করেন, ঘটনাটি প্রায় এক মাস আগের। তার অভিযোগ, সালিশে সবার মতামত শোনার সুযোগ সমানভাবে দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ধৈর্যসহকারে শোনা প্রয়োজন, অন্যথায় সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক মানুষের উপস্থিতিতে আয়োজিত সালিশে মতবিরোধ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত পরিস্থিতি শান্ত রেখে সবার বক্তব্য বিবেচনায় নেওয়া।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় আলোচনা
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠকের সময় একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। পরে ভিডিও ধারণ বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হলে রেকর্ডিং থেমে যায়। পরবর্তীতে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কেউ বিষয়টিকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ জনপ্রতিনিধির আচরণ নিয়ে সমালোচনা করছেন।
এমপির ব্যাখ্যা
ঘটনার বিষয়ে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমদ হানজালা বলেন, স্থানীয়দের অনুরোধে তিনি সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার দাবি, বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে বারবার তর্ক চলছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি কঠোরভাবে কথা বলেছেন।
তিনি আরও জানান, শেষ পর্যন্ত সালিশের বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়েছে। তার মতে, ওই সময় মূল লক্ষ্য ছিল বৈঠকের পরিবেশ স্বাভাবিক রাখা।
জনসম্মুখের সালিশে দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন
স্থানীয় পর্যায়ের সালিশ বৈঠকগুলোতে জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক নেতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বৈঠকে সব পক্ষের বক্তব্য শোনা, ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখা আস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
শিবচরের এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা মতামত তৈরি হয়েছে।
Source attribution: Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন
