আমরা তেল বিক্রি করতে না পারলে এই অঞ্চলের কেউই পারবে না: ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যে ইরান সতর্ক করে জানিয়েছে, তারা যদি নিজেদের তেল বিক্রি করতে না পারে, তাহলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর তেল রপ্তানিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানি গবেষক আলী আকবর দারেইনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থাকা শান্তি আলোচনা কার্যত ভেঙে পড়েছে। তার দাবি, আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা না হলেও দুই দেশের মধ্যে এক ধরনের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

পারস্য উপসাগরে জাহাজ চলাচল নিয়ে বিরোধ

ইরানের পক্ষ থেকে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল নিয়ে কয়েকটি শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানের দাবি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট নৌপথ ব্যবহার, নির্ধারিত সেবামূল্য প্রদান এবং ইরানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে এমন কোনো সামগ্রী পরিবহন না করা—এই নিয়মগুলো মেনে চলতে হবে।

ইরানি গবেষকের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন বেশ কিছু বাণিজ্যিক জাহাজ এসব শর্ত মেনে ওই অঞ্চল দিয়ে চলাচল করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণে এই ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।

জ্বালানি বাজারে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ পারস্য উপসাগর। এই অঞ্চলে কোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার অনেক দেশ মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু দুই দেশের সম্পর্ক নয়, বৈশ্বিক তেল বাজার, জাহাজ চলাচল এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের কঠোর অবস্থান

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও চাপের বিরুদ্ধে তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে থাকবে। তেহরানের বক্তব্য হলো, তাদের তেল রপ্তানি বন্ধ করার চেষ্টা করা হলে তারা আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়টিকে নতুনভাবে বিবেচনা করবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বিষয়ে নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কূটনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের জন্য গুরুত্ব

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হলে পরিবহন খরচ, শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ বাজার ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনার দিকে নজর রাখছে। কারণ দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনা এড়াতে কূটনৈতিক সমাধানই সবচেয়ে কার্যকর পথ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Source: Based on reporting from Jugantor

Next News Previous News