লেবাননে ইসরাইলের দখলদারত্ব সমঝোতা স্মারকের লঙ্ঘন: আরাগচি
লেবাননে ইসরাইলি উপস্থিতিকে চুক্তি লঙ্ঘন বললেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি অব্যাহত থাকাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে তেহরান। এমন মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আরাগচি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারত্ব অব্যাহত থাকলে তা সমঝোতা স্মারকের পরিপন্থী হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এখন থেকে লেবাননের ওপর ইসরাইলের কোনো হামলাই গ্রহণযোগ্য হবে না।
আরাগচির মতে, ইরান ও লেবাননকে ঘিরে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। তাই মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হলে শুধু ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা নয়, লেবাননকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাতেরও সমাধান প্রয়োজন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি সমঝোতার ঘোষণা এলেও লেবাননে অবস্থান বজায় রাখার বিষয়ে অনড় অবস্থান নিয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সোমবার (১৫ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রয়োজন যতদিন থাকবে, ততদিন ইসরাইলি সেনাবাহিনী লেবাননের নিরাপত্তা বেষ্টনী এলাকায় অবস্থান করবে।
নেতানিয়াহু আরও জানান, সিরিয়ার দখল করা অঞ্চল থেকেও ইসরাইলি বাহিনী আপাতত সরে যাবে না। তার ভাষায়, “যতদিন প্রয়োজন হবে, ততদিন আমরা লেবাননের নিরাপত্তা বেষ্টনী এলাকায় থাকব।”
বর্তমানে লেবাননের প্রায় ৫৭০ বর্গকিলোমিটার (২২০ বর্গমাইল) এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে দীর্ঘ সংঘাতে ইতোমধ্যে তিন হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের সামরিক উপস্থিতি এবং ইরানের সাম্প্রতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
