তারেক রহমান মুজিববাদের পথ ধরে মোদির কাছে নজরানা দিচ্ছেন
ঢাকা: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে অবৈধ পুশইন, সীমান্ত হত্যা ও নাগরিক নিরাপত্তার দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও কঠোর অবস্থান প্রয়োজন।
শাহবাগে প্রতিবাদ কর্মসূচি
সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর শাহবাগে ১১ দলীয় ঐক্যের আয়োজনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সীমান্তে অনিয়ম, হত্যা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বক্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন ও জনস্বার্থভিত্তিক হওয়া উচিত। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক ধারায় পরিবর্তনের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা ধরে রাখতে হলে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে মন্তব্য
বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়েও মন্তব্য করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি দাবি করেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি পুরোনো রাজনৈতিক ধারায় ফিরে যায়, তাহলে তা জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলবে না।
তিনি বলেন, দেশের জনগণ এমন কোনো নীতি সমর্থন করবে না যা বাংলাদেশের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে।
সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের প্রতি আহ্বান
সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সীমান্তে পুশইন ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। তিনি বলেন, নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতি তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা
তিনি পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে সরকারের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার অভিযোগ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থান আরও দৃঢ় হওয়া প্রয়োজন এবং সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ দরকার।
তার বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা
সীমান্ত ইস্যু ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অবস্থান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ভারসাম্য রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক অবস্থান—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকতে পারে।
Source: Based on reporting from Dhaka Post
