ইরান আগের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী, আইআরজিসির হুঁশিয়ারি
ইরান বর্তমানে আগের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছে দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী (আইআরজিসি)। আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে শত্রুপক্ষের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
শত্রুদের গতিবিধির ওপর নজরদারির দাবি
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় তাদের গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আগের চেয়ে আরও উন্নত হয়েছে। সংগঠনটির দাবি, প্রতিপক্ষের সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো।
যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে সক্ষমতা বৃদ্ধির দাবি
আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সংঘাতগুলো থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান বর্তমানে সামরিক প্রস্তুতি, প্রতিরোধ ব্যবস্থা এবং কৌশলগত পরিকল্পনার দিক থেকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সংগঠিত অবস্থায় রয়েছে।
আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য নিয়ে দাবি
আইআরজিসি দাবি করেছে, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কৌশলগত হিসাব প্রত্যাশামতো সফল হয়নি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলেছে।
তবে এসব দাবি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। সংঘাত পরিস্থিতিতে সামরিক বাহিনীগুলোর দেওয়া তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সবসময় সম্ভব হয় না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উদ্বেগ
বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেছে আইআরজিসি। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হয়, ফলে সেখানে উত্তেজনা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা দেখা দিলে জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলের নজর
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলোর অবস্থান ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি আলোচনার পথ খোলা রাখার আহ্বান জানাচ্ছেন অনেক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক।
আইআরজিসির এই বক্তব্য নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
Source attribution: Source: Based on reporting from আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন ও প্রেস টিভির তথ্য
