এই বাজেটের চেয়ে জামায়াতের প্রস্তাবিত ‘ছায়া বাজেট’ বেশি জনবান্ধব: গোলাম পরওয়ার
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার দাবি করেছেন, সরকারের প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় তাদের দলের প্রণীত ‘ছায়া বাজেট’ বেশি জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত এবং উন্নয়নমুখী।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর জামায়াতে ইসলামী ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার একটি ছায়া বাজেট প্রকাশ করে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, নির্ধারিত রাজস্ব আহরণ সরকারের পক্ষে অর্জন করা কঠিন হবে, ফলে বাজেট বাস্তবায়নে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা আরও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি দাবি করেন, জামায়াতের প্রস্তাবিত ছায়া বাজেট জনকল্যাণ, সুশাসন এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় সংশোধন ছাড়া আগামী ৩০ জুন বাজেটটি সংসদে পাস করা উচিত হবে না।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, বর্তমান বাজেট দেশের অর্থনীতিকে দীর্ঘমেয়াদে চাপের মুখে ফেলতে পারে এবং এটি ইতিহাসের অন্যতম বড় ঘাটতির বাজেট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক ও বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
করের আওতা সম্প্রসারণের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তার ভাষ্য, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গঠনের জন্য কার্যকর কোনো রূপরেখা প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, রাজস্ব আহরণে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার অভাব রয়েছে এবং কিছু খাতে শুল্ক বৃদ্ধি দেশের রপ্তানি আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধির কারণে খাতটি চাপে পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতের নীতির ধারাবাহিকতাই বর্তমান বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। খাতটির চলমান সংকট ও অনিয়ম দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে অর্থনীতির ওপর এর বিরূপ প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
সবশেষে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনগণের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বাজেটকে আরও জনমুখী ও বাস্তবভিত্তিক করার উদ্যোগ নিতে।
