শাহজালালের (রহ.) মাজারে দানব্যবস্থায় স্বচ্ছতার উদ্যোগ, প্রশংসায় ভাসছে প্রশাসন

সিলেটের ঐতিহাসিক হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে দানের অর্থ সঠিকভাবে মাজার, মসজিদ ও মাদরাসার উন্নয়নে ব্যবহারের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন আলেম ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

দান ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্য

সিলেটের শাহজালাল (রহ.) মাজার দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান, যেখানে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষ জিয়ারত করতে আসেন। ভক্তদের দেওয়া দান ও সদকার অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন আর্থিক ব্যবস্থাপনায় আরও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা নয়; বরং দানের অর্থের ব্যবহার আরও স্বচ্ছ করা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন নিশ্চিত করা।

আলেমদের পক্ষ থেকে প্রশংসা

জাতীয় ওলামা মাশায়েখ আইম্মা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুফতি রেজাউল করিম আবরার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রশাসনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, মাজার জিয়ারতের স্থান এবং মানুষের দান যেন সঠিক খাতে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।

তিনি আরও আহ্বান জানান, মাজারে জিয়ারতের সময় প্রচলিত কিছু রীতির পরিবর্তে সুন্নাহসম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত। তার মতে, মানুষের উচিত অসহায় ও দরিদ্রদের সহায়তায় দান-সদকার অর্থ ব্যয় করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া।

স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা

ইসলামি আলোচক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী প্রশাসনের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের কোনো ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে গেলে নানা মতামত তৈরি হতে পারে। তবে আলোচনার মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব।

তিনি দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হলে মাজার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হতে পারবে বলে মন্তব্য করেন।

প্রশাসনের উদ্যোগ নিয়ে ধর্মীয় মহলের বক্তব্য

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সিলেট হেফাজতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা রেজাউল করিম জালালি জানান, দানবাক্স স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি; বরং হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতা আনার জন্য সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মাজার ও মাদরাসার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় এমন পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন, যেখানে সবার আস্থা বজায় থাকে এবং উন্নয়নমূলক কাজে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হয়।

বাংলাদেশের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতার গুরুত্ব

দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান ও অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিয়ে সময়-সময় আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত হিসাব প্রকাশ, দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো থাকলে মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পায়।

শাহজালাল (রহ.) মাজারকে ঘিরে নেওয়া এই উদ্যোগও সেই দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। প্রশাসন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে উঠবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।

Source attribution: Source: Based on reporting from আমার দেশ অনলাইন

Next News Previous News