খাল রক্ষা না করলে বসবাসের অযোগ্য হবে ঢাকা: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম
ঢাকা: রাজধানীর খাল ও জলাশয় সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে ঢাকা নগরী বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, খাল দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা সরানো এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু ঝুঁকি কমাতে সরকার কাজ করছে।
খাল সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন
শনিবার রাজধানীর মিরপুর মুসলিম বাজার খাল পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নগরের পরিবেশ রক্ষা ও মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে খালগুলো সচল রাখা অত্যন্ত জরুরি।
মীর শাহে আলম বলেন, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখা একদিনের কোনো কাজ নয়, এটি নিয়মিত চলমান প্রক্রিয়া। দীর্ঘদিন যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অনেক খাল দখল, বর্জ্য ও অব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঢাকার জলাবদ্ধতা ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় উদ্যোগ
রাজধানীর খালগুলোতে ময়লা-আবর্জনা জমে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার সমস্যা তৈরি হয়। পাশাপাশি জমে থাকা বর্জ্য মশার প্রজননের পরিবেশ তৈরি করে, যা ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় থাকা ৫৬টি খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব খালের অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং সীমানা নির্ধারণের জন্য দুটি কমিটি কাজ করছে।
হাতিরঝিলকে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা
পরিদর্শনের আগে হাতিরঝিল এলাকার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাতিরঝিল প্রকল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগ করা হলেও বর্তমানে সেখানে নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্যের পরিবেশ অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি জানান, হাতিরঝিলকে আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করতে লাইটিং, বসার স্থান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকদের সহযোগিতা চাইলেন
খাল পরিষ্কারের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রশাসন খাল পরিষ্কার করলেও যদি আবার সেখানে বর্জ্য ফেলা হয়, তাহলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি জানান, নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য না ফেলে খাল বা আশপাশের এলাকায় ময়লা ফেললে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
খাল পরিষ্কারে সরানো হচ্ছে বিপুল বর্জ্য
প্রতিমন্ত্রী বলেন, রাজধানীর কালশী সাংবাদিক আবাসিক এলাকার ৮০ ফুট খাল থেকে ইতোমধ্যে ৫৬ ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির সময় এসব বর্জ্য পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে জলাবদ্ধতা বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার প্রাকৃতিক জলাধার ও খালগুলো সংরক্ষণ করা গেলে শুধু জলাবদ্ধতাই কমবে না, বরং নগরের পরিবেশ ও জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে। তবে এর জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উপসংহার
ঢাকার ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে খাল রক্ষা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। দখলমুক্তকরণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীর জলাবদ্ধতা সমস্যা কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Source: Based on reporting from যুগান্তর
