সুইজারল্যান্ডে রোববার শুরু হচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সমঝোতার পর আগামী ২১ জুন সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে শুরু হচ্ছে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা। ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপ হিসেবে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমানো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
বৈঠকে অংশ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও মধ্যস্থতাকারী দেশ
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২১ জুন বুর্গেনস্টকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে কারিগরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরাও অংশ নেবেন। আলোচনায় সমঝোতার বিভিন্ন ধারা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা, আস্থা তৈরির পদক্ষেপ এবং পরবর্তী রাজনৈতিক সংলাপের ভিত্তি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা, নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাব্য কাঠামো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে প্রযুক্তিগত বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে।
১৪ দফা সমঝোতার পর নতুন উদ্যোগ
এর আগে ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ১৪ দফা সমঝোতায় পৌঁছায়। এতে বিভিন্ন ফ্রন্টে সংঘাত কমানো, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত রাখা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সমঝোতা অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
ইসরাইলের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা
আলোচনার পথে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে ইসরাইলের অবস্থান। লেবাননসহ বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত বন্ধের বিষয়ে সমঝোতা থাকলেও ইসরাইল এ বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে যে ইসরাইল যুদ্ধবিরতি ও সমঝোতার শর্তগুলো মেনে চলবে। তেহরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তারা প্রস্তুত, তবে পারস্পরিক আস্থা প্রয়োজন।
ইরানের প্রতিনিধিদল যাচ্ছে সুইজারল্যান্ডে
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, সমঝোতার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি যাচাই করতে ইরানের একটি প্রতিনিধিদল সুইজারল্যান্ডে যাবে।
তিনি বলেন, পূর্ব অভিজ্ঞতার কারণে ইরান আলোচনার বাস্তবায়ন পর্যায়ে সতর্ক ভূমিকা পালন করবে। তার মতে, চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করতে হলে আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতায় সম্ভাব্য প্রভাব
বিশ্লেষকদের মতে, বুর্গেনস্টকের বৈঠক সফল হলে এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে এই আলোচনা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু আলোচনা শুরু করাই যথেষ্ট নয়; চুক্তির বাস্তবায়ন, আঞ্চলিক পক্ষগুলোর সহযোগিতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে।
Source attribution: Source: Based on reporting from সময় নিউজ
