তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির আন্দোলনের ফসল জুলাই বিপ্লব
জুলাই আন্দোলন ও বিএনপির রাজনৈতিক সংগ্রাম
একটি বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান ধূমকেতুর মতো হঠাৎ আলোর ঝলকানি নয়। এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভ, বঞ্চনা ও সংগ্রামের বিস্ফোরণ। কোনো দেশে সফল বিপ্লবের পেছনে থাকে বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলন, ত্যাগ ও নিপীড়নের ইতিহাস।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ যেমন শুধুমাত্র নয় মাসের যুদ্ধ ছিল না, বরং ১৯৪৭ থেকে শুরু হওয়া দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পরিণতি ছিল, তেমনি জুলাই বিপ্লবও কেবল ৩৬ দিনের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফল নয়। এটি দীর্ঘ ১৭ বছরের বৈষম্য, দুর্নীতি, ভোটাধিকার হরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
লেখকের মতে, ছোট ছোট আন্দোলনের সম্মিলিত রূপ ছিল ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তন। তিনি দাবি করেন, এ আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া এবং এর চূড়ান্ত বিজয়ের নেতৃত্ব দিয়েছেন তারেক রহমান।
২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ের পর দেশকে স্বনির্ভর অর্থনীতি ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা শুরু হয় বলে লেখক উল্লেখ করেন। তবে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি শক্তি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ সেই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে বলেও তার দাবি।
২০০৭ সালের এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে লেখক বলেন, সে সময় বিএনপি নেতাদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালানো হয়। বিশেষ করে তারেক রহমানের ওপর চালানো নির্যাতনকে তিনি রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নির্মম ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।
পরবর্তীতে ২০০৮ সালের নির্বাচন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে লেখক মন্তব্য করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করে লেখক দাবি করেন, এসব ঘটনা জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হতে সাহায্য করে।
২০১৮ সালের নির্বাচনকে লেখক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই নির্বাচনের পর দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন আরও বেগবান হয়।
তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৮২৫টির বেশি মামলা হয়েছে এবং এসব মামলায় ৫০ লাখেরও বেশি মানুষকে আসামি করা হয়েছে। এই সময়ে বহু নেতা-কর্মী আর্থিক, সামাজিক ও শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
