ট্রাম্পের হুমকির পর ইরানে হামলা শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে আবারও হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির পর এই হামলা শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ ধরনের পদক্ষেপ চলমান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানায়, তারা ইরানের একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা পরিচালনা করছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ইরানের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব।

এর আগে হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরানকে দায়ী করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ওই ঘটনার পরই ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে তিনি যুদ্ধের অবসানে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের আহ্বানও জানান।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে, যা ইরানের ওপর আরোপিত অবরোধ ভঙ্গ করে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি চুক্তি হতে পারে।

এদিকে দীর্ঘদিনের বোমাবর্ষণের পরও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। দেশটির ধারণা, হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করে দেওয়ার সক্ষমতা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা।

জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি বলেছেন, “ইরান কখনোই হুমকি ও চাপের মুখে আলোচনা করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।”

অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করা এবং দেশটির আঞ্চলিক প্রভাব কমিয়ে আনা। এতে সমঝোতার সম্ভাবনা আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বিভিন্ন দেশে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, নজরদারি রাডার এবং নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

ইরান দাবি করেছে, মার্কিন হামলায় দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক শহরের পানির অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে বহু মানুষ সাময়িকভাবে পানি সংকটে পড়েছে।

পরবর্তীতে ইরান কুয়েত, বাহরাইন এবং জর্ডানে মার্কিন সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় পাল্টা হামলার দাবি করে। তবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জানিয়েছে, তারা হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন হামলাকে দেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তেহরান জানিয়েছে, নতুন হামলার পর তারা যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার অবস্থান পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

তবে সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পক্ষ মধ্যস্থতার মাধ্যমে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Next News Previous News