ক্যান্সার-কিডনিসহ ৬ দুরারোগ্য রোগে আক্রান্তরা পাবেন বছরে ১ লাখ টাকা
দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ক্যান্সার, কিডনি রোগ, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার কথা জানানো হয়েছে।
চিকিৎসা ব্যয় সামলাতে বাড়ছে সরকারি সহায়তা
প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব রোগে আক্রান্ত রোগীরা বছরে একবার এককালীন এই আর্থিক সহায়তা পাবেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তরের ‘হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম’-এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে এই কর্মসূচির আওতায় রোগীরা আগের তুলনায় দ্বিগুণ অর্থ সহায়তা পাবেন।
দরিদ্র পরিবারের চিকিৎসা সংকট কমানোর উদ্যোগ
ক্যান্সার, কিডনি ও অন্যান্য জটিল রোগের চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় অনেক পরিবারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে নিয়মিত পরীক্ষা, ওষুধ, থেরাপি ও হাসপাতালে ভর্তির খরচ বহন করা অনেক রোগীর পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অর্থের অভাবে অনেক রোগী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারেন না। এর ফলে রোগীদের শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে অসহায় রোগীদের পাশে দাঁড়াতে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে সম্ভাব্য ঘাটতির পরিমাণ ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
এই ঘাটতি পূরণে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা করেছে। বৈদেশিক ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
অর্থনীতি ও জনকল্যাণে সরকারের লক্ষ্য
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার ২৪ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সহায়তার মতো কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানো হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে স্বচ্ছ যাচাই ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।
সাধারণ মানুষের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব
বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। বছরে ১ লাখ টাকার এই সহায়তা রোগীদের চিকিৎসা খরচের পুরোটা বহন না করলেও জরুরি সময়ে পরিবারগুলোর আর্থিক চাপ কিছুটা কমাতে পারে।
নতুন অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হওয়ার পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
Source attribution: Source: Based on reporting from দৈনিক সংবাদ প্রতিবেদন ও জাতীয় বাজেট প্রস্তাবনা
