ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বা সামরিক চাপের মুখেও ইরান আত্মসমর্পণ করবে না। দেশের মর্যাদা, ভূখণ্ড ও জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্নে তেহরান কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।

আত্মসমর্পণের সম্ভাবনা নাকচ করলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১০ জুন) দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানান, যুদ্ধ কোনো দেশের জন্যই ভালো ফল বয়ে আনে না। তবে সামরিক শক্তি ব্যবহার করে ইরানকে দুর্বল করা বা আত্মসমর্পণে বাধ্য করার চেষ্টা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরানের স্বাধীনতা ও জাতীয় সম্মানের ওপর আঘাত এলে দেশটি প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, বর্তমান সংকটের মধ্যেও তেহরান কূটনৈতিক ও সামরিক অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসতে চায় না।

গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরলেন পেজেশকিয়ান

নিজের বক্তব্যে গাজার পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাতের পরও একটি ছোট ভূখণ্ডকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা যায়নি। তার মতে, একইভাবে ইরানের মতো বড় দেশকে চাপ প্রয়োগ করে পরাজিত করা সহজ হবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মূলত অভ্যন্তরীণ সমর্থন ধরে রাখা এবং আন্তর্জাতিক মহলে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করার অংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন করে হামলা চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, ইরানের ধারাবাহিক কার্যক্রমের জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ লক্ষ্য করেও আক্রমণের দাবি করেছে তেহরান।

বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উদ্বেগ

মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে বৈশ্বিক বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশসহ এশিয়ার অনেক দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত হলে জ্বালানি মূল্য ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাপ তৈরি হতে পারে।

শেষ কথা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এখনো অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের কঠোর বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, সামরিক চাপের মধ্যেও তেহরান আপসের পথে যেতে প্রস্তুত নয়। তবে সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

Source attribution: Source: Based on reporting from দৈনিক ইত্তেফাক, Middle East Eye and international media reports

Next News Previous News