নেতানিয়াহুকে মানসিকভাবে সুস্থ রাখি আমি : ট্রাম্প
ঢাকা: দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
শিক্ষাব্যবস্থায় কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব বাড়ছে
শুক্রবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে রোটারি বাংলাদেশ আয়োজিত একটি লিডার্স ট্রেনিং সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষা কাঠামোকে পরিবর্তন করা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই মাধ্যমিক পর্যায়ের শুরু থেকেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি জানান, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তব জীবনে কাজে লাগবে এমন দক্ষতাও অর্জন করতে পারবে।
দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে কর্মমুখী শিক্ষার ওপর জোর
শিক্ষামন্ত্রীর মতে, শুধু উচ্চশিক্ষার দিকে সবাইকে ঠেলে দিলে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। তাই শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও সক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষা বিস্তারের মাধ্যমে দেশের তরুণ সমাজকে চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা তৈরি ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগও বাড়বে।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষার অনিয়ম ঠেকানোর উদ্যোগ
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পাবলিক পরীক্ষা আইন কার্যকর হওয়ায় পরীক্ষায় অনিয়ম ও নকল প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শিক্ষা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সম্ভাবনার নতুন ক্ষেত্র
বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হলে শিক্ষার্থীরা ছোট বয়স থেকেই বিভিন্ন পেশাভিত্তিক দক্ষতা সম্পর্কে ধারণা পাবে। এতে দেশের শিল্প, প্রযুক্তি ও সেবা খাতে দক্ষ কর্মীর সংখ্যা বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় দক্ষতা উন্নয়নভিত্তিক শিক্ষা ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই উদ্যোগ সফল করতে হলে প্রশিক্ষিত শিক্ষক, আধুনিক ল্যাব এবং পর্যাপ্ত অবকাঠামো নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপসংহার
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা চালুর উদ্যোগ দেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাস্তব দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করা গেলে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
Source: Based on reporting from দৈনিক ইত্তেফাক
