চুক্তি হলে বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল রফতানি করতে পারে ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে তেহরানের তেল রপ্তানি আবার বড় পরিসরে ফিরে আসতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। বিশ্লেষকদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হলে ইরান বছরে ৬০ বিলিয়ন ডলারের বেশি তেল বিক্রির আয় করতে সক্ষম হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের জ্বালানি সরবরাহ পুনরায় বাড়লে শুধু দেশটির অর্থনীতিতেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তেল বাজারে ফিরতে পারে তেহরান

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধপূর্ব উৎপাদন সক্ষমতা এবং বর্তমান আন্তর্জাতিক তেলের মূল্য বিবেচনায় ইরানের জন্য বড় আকারের রপ্তানি আয় সম্ভব হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির জ্বালানি খাত চাপের মধ্যে থাকলেও নতুন সমঝোতা হলে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ইরান বিশ্বের অন্যতম বড় তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির তেল রপ্তানি বাড়লে এশিয়া ও অন্যান্য অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

নৌ অবরোধ ও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির ইঙ্গিত হিসেবে কয়েকটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার বন্দর ছেড়ে যাত্রা শুরু করেছে। কিছু জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ ব্যবস্থার আওতা অতিক্রম করেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

তবে এসব কার্যক্রমকে চুক্তি বাস্তবায়নের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, কূটনৈতিক সমঝোতা কার্যকর হওয়ার আগে আরও অনেক ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

ইরানের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বছরে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত আয় ইরানের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। জ্বালানি খাত থেকে বাড়তি রাজস্ব পেলে দেশটি অবকাঠামো, শিল্প ও আমদানি ব্যবস্থায় নতুন সুযোগ পেতে পারে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেল রপ্তানি পুনরায় স্বাভাবিক হলে ইরানের বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কমতে পারে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটির ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।

বিশ্ব বাজারে প্রভাব

ইরানের তেল সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে প্রভাব পড়তে পারে। তবে বাজার পরিস্থিতি নির্ভর করবে চাহিদা, উৎপাদন মাত্রা এবং অন্যান্য তেল উৎপাদনকারী দেশের নীতির ওপর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ এবং চুক্তির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

শেষ কথা

সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি শুধু দুই দেশের সম্পর্কেই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তেল রপ্তানির এই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নেবে কি না, তা নির্ভর করবে কূটনৈতিক সমঝোতার সফল বাস্তবায়নের ওপর।

Source attribution: Source: Based on reporting from The Wall Street Journal ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদন

Next News Previous News