যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ‘বাজি’ ধরলে কখনো ‘পস্তাতে হবে না’: রাষ্ট্রদূত
ঢাকা: বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক আঞ্চলিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখলে বা ‘বাজি ধরলে’ হতাশ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তার এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনায় আগ্রহ তৈরি করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সাক্ষাৎটি অনুষ্ঠিত হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন চীন সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আগ্রহের মধ্যে।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত সরাসরি রাজনৈতিক মন্তব্য এড়িয়ে ক্রীড়া প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ফুটবল দলের সাম্প্রতিক জয়কে উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করে বক্তব্য দেন।
ফুটবল প্রসঙ্গ টেনে কূটনৈতিক বার্তা
রাষ্ট্রদূত বলেন, “গত রাতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র দুর্দান্ত জয় পেয়েছে এবং বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পৌঁছেছে।” এরপর তিনি হাস্যরসাত্মক ভঙ্গিতে বলেন, তিনি বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্র দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানাতে এসেছেন।
তার ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কূটনৈতিকভাবে এই মন্তব্যকে অনেকেই দুই দেশের সম্পর্কের ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সাম্প্রতিক সময়ে বড় শক্তিগুলোর কূটনৈতিক সক্রিয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের বিদেশ সফরগুলোকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, চীনসহ বিভিন্ন দেশের নজরদারি ও আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যকে অনেকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করার একটি কূটনৈতিক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গুরুত্ব
অর্থনীতি, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের মন্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃশ্যমান করে তোলে, তবে এগুলো সাধারণত সফট ডিপ্লোমেসির অংশ হিসেবেও বিবেচিত হয়।
উপসংহার
ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাম্প্রতিক মন্তব্য মূলত বন্ধুত্বপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি আস্থার বার্তাকেও তুলে ধরছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
Source: Based on reporting from দৈনিক ইত্তেফাক
