এআই মামলার মেসেজ দিয়েই ৩ জন হাতিয়েছেন ৭ লাখ
ঢাকা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ট্রাফিক আইন ভঙ্গের ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। তদন্তে জানা গেছে, চক্রটি ভুয়া ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা সংগ্রহ করেছে।
ভুয়া বিআরটিএ ওয়েবসাইট তৈরি করে প্রতারণা
মঙ্গলবার (১৬ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি ভুয়া বিআরটিএ ওয়েবসাইট তৈরি করে গাড়ির মালিকদের কাছে ট্রাফিক জরিমানার মেসেজ পাঠাতেন।
অনেক ক্ষেত্রে তারা জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে দ্রুত টাকা পরিশোধের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। ভুক্তভোগীরা ওই ভুয়া লিংকে প্রবেশ করে টাকা দেওয়ার পর প্রতারকদের কাছে অর্থ চলে যেত।
সাড়ে সাত লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়ার তথ্য
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে নিয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহার করে সংঘটিত এই প্রতারণায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
ট্রাফিক মামলার নামে আসা মেসেজ নিয়ে সতর্কতা
সিআইডি জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এআই ভিত্তিক মামলার তথ্য এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয় না। নিয়ম অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি বাড়িতে নোটিশ পাঠানো হবে।
এর বাইরে ট্রাফিক মামলা, জরিমানা বা অর্থ পরিশোধের জন্য পাঠানো অপরিচিত মেসেজ ও লিংককে প্রতারণার অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে বলেছে সিআইডি।
অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে অভিযান
এআই ট্রাফিক মামলার নামে প্রতারণার পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডিজিটাল সেবা ব্যবহারের সঙ্গে সঙ্গে নতুন ধরনের প্রতারণার ঝুঁকিও বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো সরকারি সেবা বা জরিমানার অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল মাধ্যম যাচাই করা জরুরি।
সাধারণ মানুষের জন্য সতর্কবার্তা
অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করা এবং সন্দেহজনক বার্তা পেলে যাচাই করা—এসব বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রতারণা ঠেকাতে নাগরিক সচেতনতা ও দ্রুত অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Source: Based on reporting from Ekattor
