চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনি, পদ হারালেন দুই বিএনপি নেতা
বরিশাল: চাঁদাবাজির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার হওয়ার পর বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দুই বিএনপি নেতার সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক নোটিশে বিষয়টি জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়েছে, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের কারণে দুই নেতার সব সাংগঠনিক পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পদ স্থগিত হওয়া নেতারা হলেন—চাঁদপাশা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান জাকির মোল্লা এবং একই ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক।
দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত দুই নেতা কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সাংগঠনিক যোগাযোগ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলমগীর হোসেন স্বপন ও সাধারণ সম্পাদক মো. শাহিন হোসেন স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
চাঁদা দাবির অভিযোগে গণপিটুনি
এর আগে সোমবার রাতে বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের রেইনট্রিতলা এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগে স্থানীয়দের হাতে গণপিটুনির শিকার হন ওই দুই নেতা।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক বালু ব্যবসায়ীর কাছে তারা ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে মারধর করেন। পরে স্থানীয়ভাবে মুচলেকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তদন্তের দাবি
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় পর্যায়ে এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত বা আইনগত পদক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে দলীয়ভাবে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিএনপি স্থানীয় নেতৃত্ব।
উপসংহার
চাঁদাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরিশালের বাবুগঞ্জে দুই বিএনপি নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিতের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতি।
Source: Based on reporting from Amar Desh
