পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে জোরালো উদ্যোগ নিতে হবে
পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে জোরালো উদ্যোগের আহ্বান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। তিনি বলেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরাতে কার্যকর ও দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে এবং এতে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
সোমবার জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বাজেট ঘাটতি তুলনামূলক কম। পাচার হওয়া অর্থের মাত্র এক-নবমাংশ ফিরিয়ে আনতে পারলেও বাজেট ঘাটতি থাকবে না। তিনি বলেন, এই অর্থ জনগণের, তাই তা ফিরিয়ে আনতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধে উৎসাহিত না হয়।
তিনি অর্থবছর জুলাই-জুনের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার প্রস্তাব দেন। তার মতে, এতে বাজেট বাস্তবায়নের গতি বাড়বে, অপচয় ও দুর্নীতি কমবে এবং জনগণের করের অর্থ আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে তিন মাস পরপর সংসদে আলোচনা করারও প্রস্তাব দেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেট একটি দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির রূপরেখা। তিনি অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার বাজেট উপস্থাপন করেছে। তবে বিরোধীদলের দায়িত্ব হচ্ছে বাজেটের দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া।
শিক্ষাখাত নিয়ে তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার বিকল্প নেই। কওমি মাদ্রাসার জন্যও বাজেটে বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের অবকাঠামো, জনবল ও সেবার মান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।
প্রবাসী শ্রমিকদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের জন্য বাজেটে বিশেষ উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও দালালচক্র ভেঙে দিতে এবং প্রবাসীদের সমস্যা সমাধানে একটি টাস্কফোর্স গঠনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযোদ্ধা ও খেতাবপ্রাপ্তদের ভাতা বৃদ্ধি করা উচিত। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে নিহত, গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ বিচার ও রাষ্ট্রীয় মূল্যায়নের দাবি জানান।
নিজ নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও তিনি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বিশেষ করে সিলেট অঞ্চলের পানি সংকট, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কাজ দ্রুত শেষ করা, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসন এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।
বক্তব্য শেষে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাজেটসহ বিভিন্ন জাতীয় বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য বিরোধীদলীয় নেতাকে ধন্যবাদ জানান।
