ইরানে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের আগে ‘অদ্ভুত বস্তু’ দেখেন মার্কিন পাইলট
ইরানের আকাশে ‘জেলিফিশ আকৃতির ড্রোন’, বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা জানালেন মার্কিন পাইলটগত এপ্রিলে ইরানের আকাশসীমায় বিধ্বস্ত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলট দাবি করেছেন, দুর্ঘটনার আগে তিনি আকাশে এক অদ্ভুত আকৃতির উড়ন্ত বস্তু দেখেছিলেন, যা দেখতে অনেকটা জেলিফিশের মতো ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বস্তুটি আসলে অসংখ্য ছোট ড্রোনের সমন্বয়ে তৈরি একটি জটিল কাঠামো হতে পারে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর উদ্ধার হওয়া পাইলট গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
‘এলিয়েনের মতো’ দৃশ্য
পাইলটের বক্তব্য অনুযায়ী, আকাশে তিনি এমন কিছু দেখেছিলেন যা প্রচলিত কোনো সামরিক উড়ন্ত যানের সঙ্গে মেলানো কঠিন। তার দাবি, বড় আকারের কয়েকটি ড্রোনের নিচে অসংখ্য ছোট ড্রোন এমনভাবে বিন্যস্ত ছিল, যা দূর থেকে দেখতে জেলিফিশের ঝুলন্ত পায়ের মতো মনে হচ্ছিল।
পাইলটের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে জানায়, ড্রোনগুলোর সমন্বিত চলাচল এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে সেটি অনেকটা ভিনগ্রহের কোনো প্রযুক্তির মতো মনে হয়েছে।
গোয়েন্দাদের মধ্যে নতুন প্রশ্ন
কীভাবে এতগুলো ড্রোন সমন্বিতভাবে এমন একটি কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হলো, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে সম্ভাব্য ‘ড্রোন স্বার্ম’ বা সমন্বিত ড্রোন প্রযুক্তির উন্নত উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ড্রোন প্রযুক্তিতে নতুন উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, যদি পাইলটের বর্ণনা সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এটি ইরানের ড্রোন প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ইঙ্গিত হতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সামরিক সংঘাতে ড্রোনের সমন্বিত ব্যবহারের নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এই ধরনের প্রযুক্তি।
আরেকটি সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইলট আকাশে ড্রোনের একটি ‘মাইনফিল্ড’ বা বিস্তৃত জালের মতো বিন্যাস দেখেছিলেন, যা যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
বিমান বিধ্বস্তের কারণ এখনও অজানা
বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানটি কীভাবে ভূপাতিত হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ড্রোন প্রযুক্তি বা ড্রোন-সম্পর্কিত কোনো কৌশল এ ঘটনায় ভূমিকা রাখতে পারে।
তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমান বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
