কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা, আটক ১

কুমিল্লা নগরীতে মাদকবিরোধী মানববন্ধনে হামলা ও ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পর গুলিবিদ্ধ স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া বাদী হয়ে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একজনকে আটক করেছে পুলিশ এবং অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

স্থানীয়দের মতে, মাদকবিরোধী অবস্থানের জেরে সংঘটিত এই সহিংসতা শুধু আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিই নয়, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে একটি স্কুলপড়ুয়া শিশুর গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলায় ১২ জন আসামি

কোতোয়ালি মডেল থানার তথ্য অনুযায়ী, মামলায় সাব্বির ও অপুসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে শ্রাবণ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্যদের খুঁজে বের করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ঢাকায় চিকিৎসাধীন স্কুলছাত্র প্রেম

গুলিবিদ্ধ ইথান আহমেদ প্রেম বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার পরিবার জানিয়েছে, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়।

প্রেমের বাবা ইউনুছ মিয়া বলেন, চিকিৎসকেরা এখনও তার শরীর থেকে গুলিটি বের করতে পারেননি। ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হওয়ায় চিকিৎসকেরা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞ সার্জনের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অন্যদিকে, শিশুটির মা সোনিয়া আক্তার ছেলের দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় পুরো পরিবার এখন চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছে।

চিকিৎসকদের বক্তব্য

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. মো. শাহজাহান জানিয়েছেন, গুলিটি শিশুটির ফুসফুসের কাছাকাছি আঘাত করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানের কারণে স্থানীয়ভাবে অস্ত্রোপচার না করে তাকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

চিকিৎসকদের আশা, উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে গুলিটি অপসারণ করা সম্ভব হবে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাঁটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ে দুটি গ্রুপের মধ্যে বিরোধের জেরে বুধবার রাতে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে সংঘর্ষ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক কমিটির উদ্যোগে একটি মাদকবিরোধী মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মানববন্ধন চলাকালে অস্ত্রধারী একদল ব্যক্তি হামলা চালায় এবং গুলিবর্ষণ করে। এতে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই হামলায় অন্তত সাতজন আহত হন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর আহত হন স্কুলছাত্র প্রেম।

জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন

একটি মাদকবিরোধী কর্মসূচিতে হামলা এবং স্কুলছাত্রের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সচেতন মহল মনে করছে, মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে চলাফেরা করতে পারে।

সূত্র: আমার দেশ-এর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

Next News Previous News