জুলাই শহীদের অনুদানের টাকায় দ্বিতীয় বিয়ে করলেন বাবা, দুর্দশায় মা
জুলাই শহীদের অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ, যা বললেন শহীদ শাহরিয়ারের বাবা
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শেখ শাহরিয়ার বিন মতিনের অনুদানের টাকা দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে তার বাবা মোহাম্মদ আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, নিজের উপার্জনের অর্থেই তিনি বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিও ছিল।
অভিযুক্ত আব্দুল মতিন রাজধানীর মতিঝিলে একটি প্রতিষ্ঠানে সেলস ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তার প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম। তাদের একমাত্র ছেলে শেখ শাহরিয়ার বিন মতিন ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত হন। এছাড়া তাদের ১০ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ২৯ মে আব্দুল মতিন দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়েতে ৭ লাখ টাকার কাবিন এবং প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব ব্যয় শহীদ ছেলের জন্য সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ থেকে করা হয়েছে।
মমতাজ বেগম দাবি করেন, তার অনুমতি ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলে শহীদ হওয়ার পর সরকারের দেওয়া অনুদানের অর্থ ব্যবহার করে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন তার স্বামী। এছাড়া শহীদ পরিবারের জন্য বরাদ্দ এককালীন ৩০ লাখ টাকা তুলতে তার স্বাক্ষর জাল করারও চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ছেলে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই দ্বিতীয় বিয়ের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমনকি গত ২ জুন মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যরা তাকে নিবৃত্ত করেন।
এদিকে আব্দুল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বংশ রক্ষার জন্য এবং মায়ের অনুরোধে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। তার দাবি, প্রথম স্ত্রী বিয়ের আগে সম্মতি দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, আলফা গ্রুপে চাকরি করে বিয়ের খরচ বহনের সামর্থ্য তার রয়েছে এবং শহীদ ছেলের অনুদানের টাকা ব্যবহার করার প্রয়োজন হয়নি।
আব্দুল মতিন জানান, দ্বিতীয় বিয়ের পর প্রথম স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি কয়েকবার চেষ্টা করেছেন। তবে তাকে বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর আয়াস বলেন, শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, পরিবার ও সন্তানকে নিয়েই জীবন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব ছিল এবং ঘটনাটি নিয়ে সামাজিকভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
