ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়ক ও টোল প্লাজায় বিজিবি মোতায়েন
আসন্ন ঈদুল আজহাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক, সেতু ও টোল প্লাজায় যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ঈদযাত্রাকে নির্বিঘ্ন রাখতে ইতোমধ্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৩টি বিশেষ টিম মোতায়েন করা হয়েছে। সরকারের নির্দেশনায় গত ২১ মে থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম ঈদের পর আরও তিন দিন পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মঙ্গলবার বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা।
দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে নজরদারি জোরদার
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসংলগ্ন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বাইপাইল এবং নবীনগর এলাকায় চারটি টিম দায়িত্ব পালন করছে। এছাড়া পদ্মা সেতু ও ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজা এলাকায় ছয়টি টিম মোতায়েন করা হয়েছে, যেখানে ঈদকে কেন্দ্র করে যানবাহনের চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ রুটেও বিশেষ নজরদারি রাখা হচ্ছে। মেঘনা সেতু, পঞ্চবটি সেতু, কাঞ্চন সেতু, মোগড়াপাড়া এবং মদনপুর মোড়-কাঁচপুর এলাকায় চারটি টিম দায়িত্ব পালন করছে। গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় রয়েছে একটি পৃথক টিম।
এছাড়া যমুনা সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে দুইটি টিম, চট্টগ্রামের শাহ আমানত কর্ণফুলী সেতু এলাকায় একটি টিম, খুলনার রূপসা খান জাহান আলী সেতু এলাকায় একটি টিম এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব সেতু এলাকায় একটি টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। লালন শাহ সেতুর কুষ্টিয়া ও পাবনা প্রান্তে দুইটি টিম এবং নাটোরের গুরুদাসপুর আত্রাই টোল প্লাজা এলাকায় একটি টিম দায়িত্ব পালন করছে।
ঈদযাত্রায় ভোগান্তি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ
প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী থেকে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়লে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে টোল প্লাজা, সেতু এলাকা ও মহাসড়কের সংযোগস্থলগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকার ঘটনা নিয়মিত দেখা যায়। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে আগেভাগেই মাঠে নেমেছে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।
বিজিবি জানিয়েছে, শুধু যানজট নিরসন নয়, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও সদস্যরা কাজ করছেন। বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় সহায়তার পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ঘরমুখো মানুষের জন্য বাড়ছে স্বস্তির আশা
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের সময় সড়কে অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে টোল প্লাজা ও সেতু এলাকায় দ্রুত যান চলাচল নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘ ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।
সড়ক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়মিত মনিটরিং ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি। যাত্রীদের সচেতনতা এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সহযোগিতাও ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে, ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম বড় যাত্রীচাপ সামাল দিতে এবার আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। মাঠপর্যায়ে বিজিবির সক্রিয় উপস্থিতি ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Source: Based on reporting from local media and Border Guard Bangladesh (BGB)
