বিচারকেরা স্বাধীন বলেই এনসিপি নেতারা জামিন পেয়েছেন: আইনমন্ত্রী
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, দেশের বিচারকেরা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া রাজনৈতিক নেতারাও দ্রুত জামিন পাচ্ছেন। আদালত পরিচালনায় আইন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ রয়েছে—এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মামলাজট এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কথা বলেন।
এনসিপি নেতাদের বক্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালত নিয়ন্ত্রণে আইন মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এমন মন্তব্য আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে।
তিনি দাবি করেন, বিচারকেরা সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং কোনো রাজনৈতিক চাপের মধ্যে নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “বিচারকেরা স্বাধীন বলেই বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া এনসিপি নেতারা পরদিনই জামিন পেয়েছেন।”
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক পক্ষ বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি করতে চাইছে।
রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত করার আশ্বাস
আলোচনায় রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিষয়টিও উঠে আসে। এ ঘটনায় বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে রাষ্ট্র প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তবে একই সঙ্গে তিনি দেশের বিচারব্যবস্থার কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করেন।
তার মতে, দেশে বিচারক ও দক্ষ আইনজীবীর সংকট থাকায় অনেক মামলার নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। বিশেষ করে ট্রায়াল পরিচালনায় অভিজ্ঞ আইনজীবীর স্বল্পতা মামলাজট কমাতে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
মামলাজট নিয়ে উদ্বেগ
বাংলাদেশের আদালতগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল সংখ্যক মামলা ঝুলে আছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারকসংখ্যা বাড়ানো, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত শুনানি নিশ্চিত না হলে মামলাজট কমানো কঠিন হবে।
আইনমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন, বিচার বিভাগের ওপর চাপ বেড়েছে। তবে তিনি দাবি করেন, অন্যান্য অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের বিচারকেরা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পান।
ঝিনাইদহের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা
সম্প্রতি ঝিনাইদহে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা এবং গ্রেপ্তারের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল না এবং আদালতও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল ঘটনাগুলোকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।
পরে আইনমন্ত্রী শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাসিক সমন্বয় সভায় অংশ নেন। সেখানে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
