সরকারি জমিতে আ.লীগ নেতার মার্কেট
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি হাটের জমি দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ভূমি অফিসের নথি ও প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর জমিটি সরকারি খাস খতিয়ানে ফিরিয়ে নেওয়া হলেও এখনো সেখানে নির্মিত মার্কেট বহাল রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জ প্রধান বাজার এলাকার সরকারি হাটের জমি কৌশলে নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে সেখানে বাণিজ্যিক মার্কেট নির্মাণ করা হয়। পরে তদন্ত ও মিস কেসের মাধ্যমে রেকর্ড সংশোধন করে জমিটি আবার সরকারের নামে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে জমি উদ্ধার হলেও স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ এখনো দেখা যায়নি।
সরকারি খাস জমি নিয়ে জটিলতা
কিশোরগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্র জানায়, প্রধান বাজারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৬৭ নম্বর দাগে প্রায় ২ একর ৬৩ শতাংশ জমির ওপর বাজারটি অবস্থিত। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন বাবুল ও তার ভাই সাইয়েদ হোসেন ওই জমির ৮ শতাংশ নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন।
ভূমি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে রেকর্ড যাচাই করে দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট এসএ খতিয়ানের অস্তিত্বই ছিল না। পরে মিস কেসের মাধ্যমে ওই জমি পুনরায় সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া খতিয়ানের মাধ্যমে জমি রেকর্ড করানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাগজে-কলমে জমি উদ্ধার করা হলেও বাস্তবে মার্কেট উচ্ছেদে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে মার্কেটটি আগের মতোই ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, প্রথমে তারা মনে করেছিলেন জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন। পরে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের সময় জানতে পারেন এটি সরকারি হাটের জমি। তাদের দাবি, শুধু ৮ শতাংশ নয়, বাস্তবে আরও বেশি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের হিসাবে, বাজার এলাকায় প্রতি শতক জমির মূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। সে হিসাবে দখল হওয়া জমির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকার বেশি হতে পারে।
মামলার নথিতে যা উঠে এসেছে
মামলার নথি অনুযায়ী, মোস্তাফিজার রহমান নামে এক ব্যক্তি তার বৈধ মালিকানাধীন জমি সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। তদন্ত শেষে প্রশাসন তার জমি পৃথক খতিয়ানে ফিরিয়ে দেয় এবং বিতর্কিত ৮ শতাংশ জমি পুনরায় সরকারি খাস খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয়।
ভূমি কর্মকর্তারা জানান, রেকর্ড সংশোধনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি পরিচ্ছন্ন হাট ব্যবস্থাপনা
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা পুরো বাজার এলাকায় সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের সরকারি জায়গাগুলো প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে, ফলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
উপজেলা জামায়াতের স্থানীয় এক নেতা বলেন, সরকারি হাটকে দখলমুক্ত করে সবার জন্য উন্মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
প্রশাসনের বক্তব্য
ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করছেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানও বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযোগ ও নথি পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ নেতা জাকির হোসেন বাবুল ও তার ভাইয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সূত্র বলছে, তারা বর্তমানে প্রকাশ্যে অবস্থান করছেন না।
Source: Based on reporting from আমার দেশ
