বিএনপির ১১ সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদোত্তীর্ণ, আলোচনায় নতুন নেতৃত্ব

বিএনপি, অঙ্গসংগঠন, নতুন নেতৃত্ব—বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। দলটির ১১টি সংগঠনের মধ্যে ১০টিরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, ফলে নতুন নেতৃত্ব গঠনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

দলীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব সংগঠনের অনেকগুলোর কমিটি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি

বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, মহিলা দল, মুক্তিযোদ্ধা দল, তাঁতীদল, মৎস্যজীবী দল, জাসাস ও ওলামা দল রয়েছে। এছাড়া ছাত্রদল ও শ্রমিক দল সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করছে।

এর মধ্যে মহিলা দলের কমিটি প্রায় ১০ বছর ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা দলের সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছে প্রায় ১৩ বছর আগে। শ্রমিক দলও প্রায় এক দশক পুরোনো কমিটি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাউন্সিল না হওয়ায় নেতৃত্বে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্রের অভাব

সংগঠনগুলোর বেশিরভাগেরই পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ দশক পার হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়নি। এতে সংগঠন পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও কাঠামোগত শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নেতৃত্ব পরিবর্তনের দাবিতে চাপ বাড়ছে

নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে নতুন নেতৃত্বে আসতে আগ্রহীদের তৎপরতা বেড়েছে। পদপ্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন।

দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, দীর্ঘদিন নতুন কমিটি না হওয়ায় একদিকে যেমন সাংগঠনিক গতি কমেছে, অন্যদিকে নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগও সংকুচিত হয়েছে। এতে অনেক সক্রিয় কর্মী সংগঠন থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

সাংগঠনিক দুর্বলতার আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত কাউন্সিল ও নেতৃত্ব পরিবর্তন না হলে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়ে পড়ে। একই নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অভ্যন্তরীণ কোন্দলও বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষ করে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠনগুলোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণা এবং পুনর্গঠনের দাবি জোরালো হচ্ছে।

উপসংহার

বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এখন নতুন নেতৃত্ব গঠন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সময়মতো পুনর্গঠন করা গেলে দলীয় কার্যক্রমে গতি ফিরে আসবে এবং রাজনৈতিকভাবে সংগঠন আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Source: Based on reporting from Jugantor

Next News Previous News