ঈদের আগে সড়কে প্রাণ গেল প্রবাসী মনিরুলের, শোকে স্তব্ধ পরিবার

প্রবাসী মৃত্যু, সড়ক দুর্ঘটনা, ঈদ ২০২৬—ঈদুল ফিতরের ঠিক আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার প্রবাসী মনিরুল ইসলাম (৩৫)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক ও অনিশ্চয়তা।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুবাইয়ে ফুড ডেলিভারির কাজ করতে গিয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের স্বপ্ন থেমে গেল এক দুর্ঘটনায়

মনিরুল ইসলাম নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের পলতি সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে ২০২৫ সালের আগস্টে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতে যান। সেখানে ফুড ডেলিভারির কাজ করে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলেন।

স্বজনদের ভাষ্য, সংসারের পুরো দায়িত্ব ছিল তার ওপর। স্ত্রী, দুই কন্যা এবং অনাগত সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়েই তিনি প্রবাসে পাড়ি জমান। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথেই থেমে গেল তার জীবনযাত্রা।

দুর্ঘটনার বর্ণনা

ঘটনার দিন ডেলিভারির কাজ করার সময় তার মোটরসাইকেল একটি ট্রেইলারের পেছনে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রবাসী শ্রমিকদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য হন, বিশেষ করে ডেলিভারি বা পরিবহন খাতে কর্মরতদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি থাকে।

শোকে স্তব্ধ পরিবার ও গ্রামবাসী

মনিরুল ছিলেন চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। ২০২০ সালে বিয়ে করেন তিনি। তার দুই মেয়ে—আয়রান (৫) ও আফরান (৩)। সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, তার স্ত্রী বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা।

তার মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছানোর পর শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন শিবলু বলেন, প্রবাসে জীবিকা অর্জনের পেছনে লুকিয়ে থাকে নানা অজানা ঝুঁকি, যা অনেক সময় জীবন কেড়ে নেয়।

মরদেহ দেশে আনার উদ্যোগ

মনিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে, যাতে শেষবারের মতো তাকে দেখতে পারেন স্বজনরা।

সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। আমরা মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”

বাংলাদেশের প্রবাসী বাস্তবতা

বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষ জীবিকার সন্ধানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত। তাদের আয়ে দেশের অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণভাবে নির্ভরশীল হলেও অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও কর্মপরিবেশের সীমাবদ্ধতা তাদের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা জোরদার, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

উপসংহার

ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তের আগে এমন একটি মৃত্যু শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো সমাজকে নাড়া দেয়। মনিরুল ইসলামের মৃত্যু প্রবাস জীবনের ঝুঁকি ও বাস্তবতার একটি করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে রইল।

Source: Based on reporting from Amar Desh

Next News Previous News