ট্রাম্পবিরোধী আন্দোলনে কাঁপছে যুক্তরাষ্ট্র, রাস্তায় লাখ লাখ মানুষ
ইরান যুদ্ধের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বিক্ষোভ, ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় কর্মসূচি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর এক মাসের মাথায় সারা যুক্তরাষ্ট্রে রাস্তায় নেমেছেন বিক্ষোভকারীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই মিছিল ও সমাবেশ ছিল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর পর ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফা কর্মসূচি।
নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ওয়াশিংটন ডিসিতে বড় সমাবেশ হয়েছে। একইসঙ্গে ইতালির রোম, ফ্রান্সের প্যারিস ও জার্মানির বার্লিনেও সমান্তরাল কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
আয়োজকরা এবার বড় শহরের বাইরে রক্ষণশীল এলাকাতেও মানুষকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন। প্রগতিশীল অলাভজনক সংস্থা ইনডিভিজিবলের সহপ্রতিষ্ঠাতা লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, “এই শনিবারের আন্দোলনের আসল গল্প হলো কতজন বিক্ষোভ করছেন তা নয়, বরং তারা কোথায় করছেন।”
সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে মিনেসোটার মিনিয়াপোলিস-সেন্ট পল এলাকায়। গত ডিসেম্বরে সেখানে ট্রাম্পের ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ অভিযানে ৩ হাজারের বেশি ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তা ঢুকে বলপূর্বক বহিষ্কার অভিযান চালিয়েছিল।
জানুয়ারিতে সেই অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেত্তি ও রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই ঘটনার স্মরণে শনিবারের সমাবেশে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মিনেসোটার সমাবেশে প্রগতিশীল সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স বক্তৃতা দেন। রক সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ও লোকসংগীতশিল্পী জোয়ান বায়েজ সংগীত পরিবেশন করেন।
অভিনেতা রবার্ট ডি নিরো পূর্বে ধারণ করা একটি ভিডিও বার্তায় বলেন, “আপনাদের সাহস ও প্রতিশ্রুতি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছে। সরকারি শক্তির মুখেও আপনারা দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।”
ওয়াশিংটন ডিসিতে লিঙ্কন মেমোরিয়াল ও ওয়াশিংটন মনুমেন্টের আশপাশে বিক্ষোভকারীরা সাইনবোর্ড হাতে সমবেত হন। সেখানে বার্নি স্যান্ডার্স বলেন, “আমরা এই দেশকে কর্তৃত্ববাদ বা ধনকুবেরদের শাসনে ডুবে যেতে দেব না। আমেরিকায় জনগণই শাসন করবে।”
এর আগে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের দুটি বড় বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছর জুন ও অক্টোবরে, যেখানে লাখো মানুষ অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভ আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কমতে থাকা জনপ্রিয়তার সুযোগ নিয়ে কংগ্রেসে আসন বাড়ানোর আশা করছে।
